ছবি সংগৃহীত
মামলা প্রত্যাহারের পরে আসামি গ্রেফতার!
আপডেট: ০৪ মে ২০১৭, ১০:৩৪
ছবি: সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ ও মামলা প্রত্যাহার করে আদালত আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার পরেও মাঝেমধ্যেই পুরনো গ্রেফতারি পরোয়ানাবলে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারের পর দেখা যায়, আসামি জামিনে আছেন অথবা খালাস পেয়েছেন। প্রতিনিয়তই ঢাকার আদালতে ঘটছে এমন ঘটছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে হয়রানি করে। ঢাকার আদালতে অহরহ এমন ঘটনা চোখে পড়ে বলে জানিয়েছেন ঢাকার আদালতের আইনজীবী সঞ্জীব চন্দ্র দাস।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলে যদি সে আদালত থেকে জামিন পায় তাহলে তার পরোয়ানা প্রত্যাহারের আদেশ দেন আদালত। আদালতের ভাষায় এটিকে বলে ‘ওয়ারেন্ট রিকল’। আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও ‘ওয়ারেন্ট রিকল’ করা হয়। ‘ওয়ারেন্ট রিকল’-সংক্রান্ত আদেশ আদালতের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়।
নিজ মেয়েকে বিষপানে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কয়লা গ্রামের জবেদ আলী বিশ্বাস গ্রেপ্তার হন ১৯৯৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ওই মামলায় ২০০১ সালের ১ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা জজ তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর জেল আপিল করলে হাইকোর্ট ২০০৩ সালের ১৯ মার্চ তাকে খালাস দেন।
আদালতের পেশকার ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দায়িত্ব ছিল হাইকোর্টের নির্দেশ বিচারকের সামনে উপস্থাপন করা ও খালাসের আদেশসংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় কারাগারে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু তারা তা করেননি। খালাস আদেশের পরও ১৩ বছর বন্দি থাকার পর সাতক্ষীরা আদালতের দুজন আইনজীবীর নজরে পড়ে বিষয়টি। তারা বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। পরে সংশ্লিষ্ট বিচারকের যথাযথ পদক্ষেপে জবেদ আলী মুক্তি পান।
ঢাকার আদালতের ফৌজদারি মামলা পরিচালনাকারী সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা রিকল আদেশ হওয়ার পরও অনেককেই পুলিশ আবার গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। এর কারণ হচ্ছে, ওয়ারেন্ট রিকল-সংক্রান্ত আদেশ আদালতের কর্মচারীরা থানায় পাঠান না। আবার রিকলের আদেশ থানায় পৌঁছানোর পরও পুলিশ হয়রানির উদ্দেশ্যে আসামিদের ফের গ্রেফতার করে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান কালের জানান, এ রকম হয়রানির পেছনে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমনটি ঘটবে না।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
প্রিয় সংবাদ/ইতি/খোরশেদ