‘বিশুদ্ধ পানি নেই, জমে থাকা কাদামাখা পানি খেতে হচ্ছে’
‘দুইটা রাত কাদা-পানির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি। রাতে বৃষ্টি হয়, দিনে প্রচণ্ড রোদ। ঠিকমতো খাবারও পাই না, বিশুদ্ধ পানিও নেই। কখনো কখনো জমে থাকা কাদামাখা পানি খেতে হচ্ছে। কতদিন এভাবে থাকতে হবে জানি না।’—এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা আব্দুস সালাম।
এই সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার শিকার নারী-শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ সদস্য টানা তিন দিন ধরে দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ঝড়-বৃষ্টি, প্রখর রোদ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা আকাশের নিচেই দিন-রাত পার করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাতে বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে বিজিবির বাধার মুখে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী জিরো লাইনে অবস্থান নেন।
রোববার (৭ জুন) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমির আইলের ওপর প্লাস্টিক টাঙিয়ে কোনো রকমে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। দিনের বেলায় প্রখর রোদ, আবার রাত হলেই বৃষ্টি। এমন প্রতিকূল পরিবেশেই নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সময় পার করছেন দুই পরিবারের সদস্যরা।