সুন্দরবনে বেড়েছে হরিণ শিকারের ফাঁদ, বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য নিরাপদ কি?

ঢাকা পোষ্ট সুন্দরবন আশীষ দত্ত প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৪

সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার হচ্ছে যা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক খবর। সাম্প্রতিক সময়ে বন বিভাগের অভিযানে হাজার হাজার মিটার হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে।


বন বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, পায়ে হেঁটে টহল বাড়ানোর ফলে ফাঁদ শনাক্ত ও উদ্ধারের হার বেড়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ হাজার ৬৪৮ ফুট ‘মালা ফাঁদ’ উদ্ধার করে বন বিভাগ। 


একই সময়ে শিকার করা হরিণের মাংস জব্দ হয় ৭৯৩ কেজি। এর পরের এক বছরে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৩ ফুট ফাঁদ উদ্ধার করেছেন বন বিভাগের কর্মীরা। এই সময়ে হরিণের মাংস জব্দের ঘটনা কমে ২৫০ কেজি হয়। এই সময়ে বহু শিকারির বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্যও উঠে এসেছে (প্রথম আলো, ১০ আগস্ট ২০২৬)। 


সুন্দরবনের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা এমনকি সুন্দরবন পূর্ব অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাও মনে করছেন, বিগত দেড় বছরে তাদের তৎপরতার কারণে হরিণের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।


এখানে একটা বিষয় খুব পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার ফাঁদ উদ্ধার হচ্ছে মানেই সুন্দরবনের হরিণ ভালো আছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কোনো কারণ নেই। বরং বিপুলসংখ্যক ফাঁদ উদ্ধার হওয়ার ঘটনাই আমাদের জানান দিচ্ছে যে, সুন্দরবনের ভেতরে হরিণ শিকারের চাপ যথেষ্ট গুরুতর। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, হরিণ শিকারের জন্য পাতা ফাঁদ শুধু হরিণের জন্যই বিপজ্জনক নয়।


৩ জানুয়ারি ২০২৬ সুন্দরবনে হরিণ শিকারের ফাঁদে একটি বাঘ আটকা পড়ে। পরদিন বন বিভাগ বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তায় বাঘটিকে উদ্ধার করে (প্রথম আলো, ৪ জানুয়ারি ২০২৬)। 


হরিণ শিকারের ফাঁদ বাঘের জন্য দুই ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, একদিকে হরিণের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিকারের প্রাপ্যতা কমছে, অন্যদিকে বাঘ নিজেই ফাঁদে আটকা পড়ে আহত বা মারা যেতে পারে।


আয়তনে সুন্দরবন বিশাল। এর প্রতিটি খাল, নদী, চর ও গভীর বনাঞ্চলে নিয়মিত ও সমান মাত্রায় ফুট প্যাট্রোলিং করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে যে এলাকায় নিয়মিত টহল হচ্ছে, সেখানে ফাঁদ বেশি উদ্ধার হচ্ছে এটি হয়তো শিকারের প্রকৃত মাত্রার একটি অংশমাত্র। 


যে এলাকায় টহল হচ্ছে না বা খুব কম হচ্ছে, সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের ধারণাইবা কতটুকু? এই কারণেই ফাঁদ উদ্ধারের সংখ্যাকে শুধু সাফল্যের সূচক হিসেবে না দেখে শিকারের চাপের একটি সূচক হিসেবেও দেখা প্রয়োজন।


এখানে মূল প্রশ্নটি হওয়া উচিত আরও বড়, আমরা যে ফাঁদগুলো উদ্ধার করতে পারছি, তার বাইরে কতগুলো ফাঁদ এখনো সুন্দরবনের ভেতরে রয়ে গেছে আর কি পরিমাণ নতুন ফাঁদ প্রতিনিয়ত পাতা হচ্ছে?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও