জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: বাস্তবতা, প্রচার ও অপপ্রচার

প্রথম আলো মনজুর আহমদ প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যান্য আন্দোলন-সংগ্রামের মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও স্বীকৃত সত্য হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের পর বড় গণ–আন্দোলন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে জুলাইয়ের এই অভ্যুত্থান।


এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, এটা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে হয়নি। কোনো বিশেষ দলের নেতৃত্বে হয়নি বলেই সব মত-পথের লাখো মানুষ এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরেছে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, দলীয় কর্মসূচিতে শুধু সেই দলের সমর্থকদেরই অংশগ্রহণ থাকে, সে আন্দোলন কখনো সর্বজনীন হয়ে উঠতে পারে না।


জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল দলমত-নির্বিশেষে দেশের আপামর মানুষের একটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। কিন্তু কেন দেশের আপামর মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ? কারণ একটিই। তারা পনেরো বছর ধরে নানা অন্যায় প্রক্রিয়ায় শাসনক্ষমতা দখলে রাখা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের অপশাসনের অবসান চেয়েছিল।


শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নামক দলটিকে তাঁর ব্যক্তিগত বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন। এই ব্যক্তিগত বাহিনীর না ছিল কোনো নীতি, না ছিল কোনো আদর্শ। এই বাহিনীর একমাত্র কাজ ছিল নেত্রীর জয়ধ্বনি করা, আর নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।


দল থেকে পুরোনো ত্যাগী নেতা-কর্মীরা উৎখাত হয়ে গিয়েছিলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের বহু নেতা-কর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি তাঁর পছন্দমতো আওয়ামী লীগকে গড়ে তুলছিলেন এবং তাঁর একান্ত বশংবদদের দলের বিভিন্ন পদে বসিয়ে দলটিকে পুরোপুরি নিজের হাতে রেখেছিলেন।


সার্বিক অর্থে শেখ হাসিনা যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যে আওয়ামী লীগের সরকার চালিয়েছেন, সেটি ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের উত্তরসূরি ছিল না, সেটি ছিল হাসিনার আওয়ামী লীগ।


সর্বত্র নিজের লোক বসিয়ে এমন এক অনুকূল অবস্থা গড়ে তুলে শেখ হাসিনা পনেরো বছর একচ্ছত্রভাবে দেশ শাসন করে গেছেন। তিনি পরিণত হয়েছিলেন স্বৈরশাসকে। সব স্বৈরশাসকের মতো তিনিও সমালোচনা সহ্য করতে পারতেন না। তিনিও স্তুতি ও স্তাবকতা পছন্দ করতেন। পরপর তিনবার শেখ হাসিনা নির্বাচনের নামে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছেন। নির্বাচনের আগের রাতেই ভোট হয়ে যাওয়ার অভিনব দৃষ্টান্তও স্থাপন করে গেছেন।


স্বৈরশাসকদের যে পরিণতি ইতিহাস লিখে রেখেছে, হাসিনাকেও সেই পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। দেশের কোটি মানুষ যখন রুখে দাঁড়িয়েছে, তখন তাকে পালাতে হয়েছে; দলবলসহ পালাতে হয়েছে। চব্বিশের জুলাই মাসে এসে দেখা গেল, পনেরো বছর ধরে দেশ শাসন করা এই সব রাজনীতিবিদের পায়ের তলায় মাটি নেই, সাধারণ জনগণের সঙ্গে তাঁদের বিরাট দূরত্ব।


আজ যখন শেখ হাসিনার সমর্থকেরা তাঁর পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাঁর উন্নয়নের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করছেন, তাঁরা কিন্তু বলছেন না সে আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার কথা, বলছেন না ব্যাংকিং খাতে অরাজকতার কথা, বলছেন না বিরোধীমহলের ভিন্নমত দমন করা, গুম-খুন জেল-জুলুম মামলা-হামলার কথা। কেবল কার্টুন আঁকার জন্যই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয়েছে শিল্পীকে। লেখককে কারাগারের ভেতর জীবন দিতে হয়েছে।


যেকোনো স্বৈরাচারের ধর্মই হচ্ছে প্রচণ্ড দমননীতি চালিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন মনোযোগ দেওয়া। পাকিস্তান আমলের সামরিক স্বৈরশাসক আইয়ুব খানও এর এক উজ্জ্বল উদাহরণ। হাসিনার শাসনামলে তো স্পষ্টই বলা হয়েছে, আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও