বার্ধক্যের পথে বাংলাদেশ: আমরা কি প্রস্তুত?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৯

বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনসংখ্যার দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনমিতিক সুবিধা (Demographic Dividend) নিয়ে নানা আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর আধিক্যই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাকশিল্প, কৃষি, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা প্রবাসী শ্রমবাজার—সব ক্ষেত্রেই এই তরুণ জনশক্তি দেশের অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করেছে। কিন্তু এই জনমিতিক বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নীরবে প্রবেশ করছে এক নতুন যুগে—জনসংখ্যার বার্ধক্যের যুগে। প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তনের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত?


জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ এবং জনসংখ্যাবিদদের বিশ্লেষণ বলছে, বিশ্বের প্রায় সব দেশই একসময় জনসংখ্যার বার্ধক্যের মুখোমুখি হয়। জন্মহার কমে আসা, আয়ু বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির ফলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ে। এর ফলে সমাজে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একসময় যে দেশগুলো তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচিত ছিল, সেগুলোও কয়েক দশকের মধ্যে বার্ধক্যজনিত নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড কিংবা সিঙ্গাপুর তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।


বাংলাদেশও একই পথে এগোচ্ছে। স্বাধীনতার পর একজন নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ছিল ছয়েরও বেশি। বর্তমানে তা প্রতিস্থাপন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অন্যদিকে মানুষের গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান কর্মসূচি, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি দিন বেঁচে থাকছেন। এটি অবশ্যই একটি ইতিবাচক অর্জন। কিন্তু এর সঙ্গে নতুন দায়িত্বও তৈরি হয়েছে।


জনসংখ্যাবিদরা বলেন, কোনো দেশে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৭ শতাংশ অতিক্রম করলে সেই দেশকে ‘Ageing Society’ বা বার্ধক্যের পথে অগ্রসর সমাজ হিসেবে ধরা হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে বাংলাদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়বে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস। অর্থাৎ আজ যে বিষয়টি ভবিষ্যতের সমস্যা বলে মনে হচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতেই সেটি অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, পরিবার এবং রাষ্ট্রের অন্যতম বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জে পরিণত হবে।


আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় বার্ধক্য নিয়ে আলোচনাও খুব সীমিত। পরিবারে বয়স্ক বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়া আমাদের সংস্কৃতির অংশ। কিন্তু নগরায়ণ, কর্মসংস্থানের পরিবর্তন, ছোট পরিবার, বিদেশে অভিবাসন এবং কর্মব্যস্ত জীবন সেই প্রচলিত কাঠামোকে বদলে দিচ্ছে। একসময় যৌথ পরিবারে যে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে পালন করা হতো, এখন অনেক ক্ষেত্রে তা একটি পরিবারের একজন সদস্যের ওপর এসে পড়ে। আবার অনেক প্রবীণ একাকী জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।


বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কি বার্ধক্যের জন্য প্রস্তুত? দেশের স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশ এখনো সংক্রামক রোগ, মাতৃস্বাস্থ্য এবং শিশুস্বাস্থ্যের দিকে বেশি মনোযোগী। অথচ বয়স্ক মানুষের প্রধান সমস্যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, ক্যানসার, কিডনি জটিলতা, ডিমেনশিয়া, আলঝেইমার, অস্টিওপরোসিস কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তা—এসবই বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়তে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী অসংক্রামক রোগ (Non-Communicable Diseases) বলা হয়। এগুলোর চিকিৎসা ব্যয়বহুল, দীর্ঘমেয়াদি এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক সহায়তার প্রয়োজন হয়।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোলেও তাদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই গতিতে প্রস্তুত হচ্ছে না। বাংলাদেশও একই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কারণ প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ার অর্থ শুধু বেশি হাসপাতাল নয়; প্রয়োজন জেরিয়াট্রিক চিকিৎসা, পুনর্বাসন, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, প্রশিক্ষিত সেবাকর্মী এবং প্রবীণবান্ধব স্বাস্থ্যনীতি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও