মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কতটা যৌক্তিক

www.ajkerpatrika.com মাছুম বিল্লাহ প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৯

দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে ক্যাডেট কলেজের আদলে ৬০০ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রতিটি সংসদীয় আসনে ছেলে ও মেয়েদের জন্য একটি করে আবাসিক সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ গড়ে তোলা হবে।


প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় তিন একর জমি প্রয়োজন হবে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া ৬০০টি একাডেমিক ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ভবন হবে ১০ তলাবিশিষ্ট এবং প্রতিটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা। এই খাতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৬০০টি হোস্টেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি হোস্টেল নির্মাণের ব্যয় ১০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ৬০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ল্যাব স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। যেন এক মহাযজ্ঞ!


যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান তাঁদের দেশের প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। সরকারের যাঁরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁদের নিশ্চয়ই জানা আছে, দেশে ক্রমেই চাষকৃত জমি কমে যাচ্ছে। দিন দিন জমি কমে গেলেও তা নিয়ে কারও কোনো চিন্তা দেখা যাচ্ছে না। যেভাবেই হোক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রশ্ন হলো, দেশে নতুন করে এত অর্থ ব্যয় করে কেন এতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতে হবে? দেশে তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব নেই আর সেগুলোতে কি শিক্ষার্থীদের সংকুলান হচ্ছে না?

দেশের বড় কলেজগুলোর প্রতিটিতে অনেক জমি পড়ে আছে, সেসব জায়গায় নতুন নতুন বিভাগ ও বিল্ডিং তৈরি করে বহু শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ এবং সুন্দর আবাসিকেরও ব্যবস্থা করা যায়। সেসব বাদ দিয়ে জেলায় জেলায় ধানি জমি নষ্ট করে ছোট ছোট কলেজের মতো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বানানো হয়েছিল, অনেকগুলোতে কাজ শুরু হয়েছিল পূর্ববর্তী সরকারের আমলে। এর আসল উদ্দেশ্য কারোরই অজানা নয়। অহেতুক উচ্চশিক্ষার নামে বেকার তৈরির কারখানার জন্য জনগণের টাকা অপচয় করার অধিকার কারোরই নেই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। দেশের জমি নষ্ট হবে, কিছু কর্তাব্যক্তি লাভবান হবেন আর দেশের ও জনগণের টাকা অপচয়, তাতে রাষ্ট্রের খুব একটা কিছু আসে-যায় না। সরকারি প্রকল্পগুলো দেখলে তা-ই মনে হয়।

শিক্ষিত বেকারে দেশ ছেয়ে যাচ্ছে। এবার অর্ধেক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেনি, এগুলো যেন শিক্ষার সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছে কারিকুলাম, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন আর নতুন মডেল কলেজ তৈরি করা। কোথায় সমস্যা আর আমরা কী চিন্তা করি? মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পর্যায়ে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান বানালেই যেন শিক্ষার সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।


সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী, শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নাকি এই বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি কি এভাবে? রাষ্ট্রীয় এত অর্থ ব্যয় করে বিদ্যমান মূল সমস্যাগুলোকে পাশ কাটিয়ে এগুলো করা কতটা যুক্তিসংগত!

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও