অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু: নীরব মহামারির দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু আবিষ্কার পৃথিবীকে আমূল বদলে দিয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক তার অন্যতম। একসময় নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, যক্ষ্মা কিংবা প্রসবজনিত সংক্রমণের মতো রোগ ছিল মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন এক বিপ্লব ঘটায়, যার ফলে কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে।


আধুনিক অস্ত্রোপচার, ক্যানসারের চিকিৎসা, অঙ্গ প্রতিস্থাপন কিংবা নিবিড় পরিচর্যা—সবকিছুর পেছনেই কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিকের অবদান রয়েছে। কিন্তু মানবজাতির এই মহামূল্যবান অর্জন আজ এক ভয়াবহ সংকটের মুখে। অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে, আর বাংলাদেশও সেই বৈশ্বিক সংকটের বাইরে নয়।


সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বীকার করেছেন যে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। তাঁর এই বক্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক মন্তব্য নয়; বরং জনস্বাস্থ্যের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব বিপদের সরকারি স্বীকৃতি। কারণ, এই সংকট এমন নয় যে হঠাৎ করে একটি মহামারির মতো দৃশ্যমান হবে। এটি ধীরে ধীরে চিকিৎসাব্যবস্থার কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, সাধারণ রোগকে জটিল করে তোলে এবং একসময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যখন প্রচলিত ওষুধ আর কোনো কাজই করে না।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহুদিন ধরেই অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সকে বিশ্বের শীর্ষ জনস্বাস্থ্য হুমকিগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে অন্তত ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু সরাসরি অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে ঘটে। পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। আন্তর্জাতিক গবেষণাগুলোর পূর্বাভাস আরও উদ্বেগজনক। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় এক কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধজনিত জটিলতায়। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও হবে বিপুল, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে বিপর্যস্ত করতে পারে।


বাংলাদেশে এ সংকটের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। দেশের অসংখ্য মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে সেবন করেন। সামান্য জ্বর, সর্দি, গলাব্যথা বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণেও অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অথচ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো কার্যকারিতা নেই। তবু দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশায় কিংবা ওষুধ বিক্রেতার পরামর্শে মানুষ অপ্রয়োজনীয়ভাবে এসব ওষুধ গ্রহণ করছে।


সমস্যা আরও গভীর হয় যখন রোগীরা নির্ধারিত কোর্স সম্পন্ন করেন না। কয়েক দিন ওষুধ খাওয়ার পর উপসর্গ কমে গেলে অনেকেই ওষুধ বন্ধ করে দেন। এতে জীবাণুর একটি অংশ ধ্বংস হলেও অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী জীবাণুগুলো টিকে যায় এবং ধীরে ধীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। পরবর্তীকালে সেই জীবাণুই আরও শক্তিশালী হয়ে নতুন সংক্রমণ সৃষ্টি করে। ফলে একই রোগের চিকিৎসায় আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও ব্যয়বহুল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হয়।


মানবস্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ ও কৃষিখাতেও অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে। দ্রুত ওজন বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ কিংবা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অনেক পোলট্রি, মাছ ও গবাদিপশুর খামারে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। এসব ওষুধের অবশিষ্টাংশ খাদ্য, পানি ও পরিবেশের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ফলে প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার শুধু হাসপাতাল বা রোগীর শরীরেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা পুরো পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও