প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর: কী পেল বাংলাদেশ?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ২১:২৯

কূটনীতির সাফল্য কখনো বিমানবন্দরের লালগালিচা, যৌথ ছবি কিংবা যৌথ ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি রাষ্ট্রীয় সফরের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয় কয়েক বছর পরে—যখন বোঝা যায়, সেই সফর দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ কিংবা ভূরাজনৈতিক অবস্থান কতটা এগিয়ে নিতে পেরেছে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে কেবল একটি প্রটোকলভিত্তিক বিদেশ সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ছিল নতুন সরকারের প্রথম বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।


সংসদে সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, এই সফরে যদি কোনো অর্জন হয়ে থাকে, সেটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, বাংলাদেশের অর্জন। তাঁর উচ্চারিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ স্লোগানটিও সেই দর্শনেরই প্রতিফলন। প্রশ্ন হলো, বাস্তবে বাংলাদেশ কী পেল? আর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণের পথ কতটা সুগম?


বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনীতির সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা—সবই এখন জাতীয় অগ্রাধিকার। এমন বাস্তবতায় মালয়েশিয়া ও চীন সফরের মূল লক্ষ্যও ছিল অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও কার্যকর করা।


মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। দেশটিতে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মরত। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রাই বদলে দেয় না, জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কিন্তু গত কয়েক বছরে শ্রমবাজারে নানা জটিলতা, নিয়োগে অনিয়ম, মানব পাচারের অভিযোগ এবং কর্মীদের শোষণের কারণে নতুন কর্মী নিয়োগে সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল।


এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা, অবৈধ কর্মীদের বৈধতার সুযোগ এবং স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশ যৌথভাবে শ্রমিক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নতুন সমঝোতা স্মারক প্রস্তুত এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সক্রিয় করার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনাও এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


যদি এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পায়, তাহলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নতুন গতি পাবে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা সতর্ক করে দেয়—শুধু বাজার খুললেই হবে না, দালালচক্র, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং শ্রমিক শোষণের অবসান ঘটাতে হবে। না হলে অর্জনের বড় অংশই মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে যাবে।


চীন সফরের গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। বর্তমানে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং অন্যতম বড় উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, সেতু, বন্দর, শিল্পাঞ্চল—বহু খাতে চীনের বিনিয়োগ রয়েছে। এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক ও বিভিন্ন সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, সবুজ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও