বেসুরো গান, ভাইরাল খ্যাতি এবং এক শিক্ষকের শাস্তি

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬, ১৫:৫০

গান মানুষের প্রাচীনতম সাংস্কৃতিক ভাষাগুলোর একটি। সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ আনন্দ, বেদনা, প্রতিবাদ, প্রেম, আধ্যাত্মিকতা কিংবা সামাজিক বার্তা প্রকাশের জন্য গানকে বেছে নিয়েছে। যে সমাজে গান নিষিদ্ধ হয়, সেখানে সাধারণত শুধু একটি শিল্পমাধ্যম নয়, চিন্তার স্বাধীনতারও সংকোচন ঘটে। কিন্তু যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গান গাওয়ার কারণে প্রশাসনিক শাস্তির মুখোমুখি হন, তখন প্রশ্নটি আর কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পরিণত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বিতর্কে।


সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হওয়া এই শিক্ষককে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিষয়ও। তিনি শাহ আব্দুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন।


ঘটনাটি সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই দুটি প্রশ্ন উঠে এসেছে। প্রথমত, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কি গান গাইতে পারেন না? দ্বিতীয়ত, কোনো শিক্ষকের শিল্পচর্চা যদি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠান কি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে?


প্রশ্ন দুটি সহজ মনে হলেও এর উত্তর মোটেও সরল নয়।


যারা অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে গৃহীত সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছেন, তাদের যুক্তিও একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও। তার আচরণ, বক্তব্য এবং জনসমক্ষে উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও একাডেমিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি কোনো শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বা শিক্ষকের পেশাগত পরিচয়কে গৌণ করে দেয়, তাহলে প্রতিষ্ঠান বিষয়টি বিবেচনায় আনতেই পারে।


এই পক্ষের আরেকটি যুক্তি হলো, একজন শিক্ষককে তার একাডেমিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। যদি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রচেষ্টা শিক্ষাদান, গবেষণা বা বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো বিনোদন মঞ্চ নয়; এটি জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। ফলে শিক্ষকের কার্যকলাপের মূল্যায়নে পেশাগত মানদণ্ড বিবেচনায় আসা স্বাভাবিক।


বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষকদের জন্য আচরণবিধি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য বা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভোগ করলেও প্রতিষ্ঠানবিরোধী আচরণ, হয়রানি, ঘৃণামূলক বক্তব্য বা পেশাগত দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির আছে। কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন এসে দাঁড়ায়—গান গাওয়া কি এসব অপরাধের কোনো একটি?

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও