একটি ছোট ঘটনা দিয়েই শুরু করছি। দেশের বাইরের এক বিশ্ববিদ্যালয়-শহর, একই ভবন—দোতলায় থাকে একটি বাঙালি পরিবার, নিচতলায় আরেকটি। প্রতি দুপুরে, প্রতি সন্ধ্যায়, কখনো গভীর রাতে দোতলার বারান্দা থেকে ধোঁয়া নেমে আসে নিচের বারান্দায়, শোবার ঘরে। সেখানে একটি শিশু নিঃশ্বাস নেয়। ঘটনাটি একান্তই ব্যক্তিগত, প্রায় তুচ্ছ। অথচ এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে নাগরিক জীবনের সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি—আমার স্বাধীনতা কোথায় শেষ হয়, আর অন্যের ফুসফুস কোথায় শুরু?
দৃশ্যটি কাল্পনিক নয়, এত সাধারণ যে প্রবাসের প্রায় প্রতিটি পরিবার এর কোনো-না-কোনো সংস্করণের মুখোমুখি হয়। ওপরের প্রতিবেশী সিগারেট ধরান—কখনো নিছক সিগারেট, কখনো বেশি কিছু—আর ধোঁয়া নামে নিচের জানালা গলে। নিচের পরিবার এই ধোঁয়া বেছে নেয়নি, চায়ওনি; তবু সেটি মেশে তাদের রাতের খাবারে, ঘুমে, সন্তানের শ্বাসতন্ত্রে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অবস্থান স্পষ্ট: পরোক্ষ ধূমপানের কোনো ‘নিরাপদ মাত্রা’ নেই, আর শিশুরা এর সবচেয়ে অরক্ষিত শিকার—তাদের শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বেশি, ফুসফুস তখনো গড়ে উঠছে। অর্থাৎ এখানে যা ঘটছে, তা নিছক শিষ্টাচারের প্রশ্ন নয়, স্বাস্থ্যেরও প্রশ্ন। অথচ আমরা একে আটকে রাখি ব্যক্তিগত বিরক্তির খোপে—কারণ অভিযোগ করতে গেলে থাকে সম্পর্ক নষ্টের ভয়, আর ঝামেলা এড়িয়ে চলার পুরোনো অভ্যাস।