ঝরে পড়ছে ভবিষ্যৎ: সহিংসতার মুখে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম
বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যু (Unnatural Death) একটি ক্রমবর্ধমান সামাজিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যু বলতে সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনা, হত্যা, আত্মহত্যা, রাজনৈতিক সহিংসতা, কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত এবং ডুবে মৃত্যুকে বোঝায়। যদিও এ বিষয়ে কোনো সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ নেই, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করলে একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে আসে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর বড় একটি অংশ ঘটছে কিশোর, তরুণ ও যুব সমাজের মধ্যে। অর্থাৎ যে বয়সের মানুষ একটি জাতির ভবিষ্যৎ, উৎপাদনশীল শক্তি এবং নেতৃত্বের সম্ভাবনা বহন করে, সেই বয়সের মানুষই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
উৎস-
বাংলাদেশে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সবচেয়ে বড় তিনটি উৎস হলো সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা এবং সহিংসতা বা হত্যাকাণ্ড। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এসব কারণে প্রাণ হারাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা একাই বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় এমনও দাবি করা হয়েছে যে সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনাও একটি নীরব সংকট। নির্মাণখাত, পরিবহন, কারখানা, জাহাজভাঙা শিল্প এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট দুর্ঘটনায় প্রতিবছর বহু শ্রমিক প্রাণ হারাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা, পারিবারিক হত্যাকাণ্ড, মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ, অগ্নিকাণ্ড এবং অন্যান্য দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশই ঘটছে কমবয়সীদের মধ্যে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- সহিংসতা
- রাজনৈতিক সহিংসতা