নেপালের রাজনীতি কেন বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্রে

ঢাকা পোষ্ট নেপাল অধ্যাপক ড. সুজিত কুমার দত্ত প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৩

দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক মানচিত্রে ছোট হলেও নেপাল আজ ক্রমেই বৈশ্বিক শক্তির কৌশলগত হিসাব-নিকাশের কেন্দ্রে উঠে আসছে। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এই দেশটি শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং এর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।


একদিকে উদীয়মান শক্তি চীন, অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রভাবশালী ভারত এই দুই পরাশক্তির মাঝে অবস্থান করে নেপাল এক অনন্য কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রও তার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অংশ হিসেবে নেপালের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।


নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, বারবার সরকার পরিবর্তন এবং নীতিনির্ধারণে অস্পষ্টতা এই দেশটিকে বহিরাগত প্রভাবের জন্য আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে নেপালের রাজনীতি এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পরিণত হয়েছে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে।


এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে নেপালের রাজনীতি কেন এবং কীভাবে বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে এবং এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক কৌশলগত স্থিতিশীলতার ওপর কতটা গভীর?


প্রথমত, নেপালের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের উত্থান এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া ‘জেন জি’ আন্দোলন দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোকে নড়িয়ে দিয়েছে। এই আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন, যা দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো দেশেও তরুণদের নেতৃত্বে যে রাজনৈতিক জাগরণ দেখা গেছে, নেপালেও তার প্রতিফলন ঘটেছে। এই প্রজন্ম শুধুমাত্র পরিবর্তন চায় না; তারা স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা দাবি করছে।


দ্বিতীয়ত, নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন শক্তির আবির্ভাব দেশটির রাজনীতিকে নতুন পথে পরিচালিত করছে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে প্রচলিত জোটভিত্তিক অস্থিতিশীল রাজনীতির বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।


দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতি ক্ষমতার পালাবদল ও জোটের অস্থিরতায় ভুগছিল। এই প্রেক্ষাপটে আরএসপির উত্থান জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। একইসঙ্গে বলেন শাহ-এর মতো তরুণ ও উদ্ভাবনী নেতৃত্ব নেপালের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি প্রথাগত রাজনীতির বাইরে থেকে উঠে এসে নাগরিকদের আস্থা অর্জন করেছেন, যা ভবিষ্যতের রাজনীতির দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।


তৃতীয়ত, নেপালের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান দেশটিকে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভারত ও চীনের মধ্যবর্তী একটি ভূখণ্ড হিসেবে নেপাল সবসময়ই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীন-এর অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাওয়ায় নেপালের ওপর তার প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


অন্যদিকে ভারত ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কারণে নেপালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। এই দ্বিমুখী প্রভাব নেপালকে এক ধরনের ‘ব্যালান্সিং’ কৌশল গ্রহণে বাধ্য করছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও