মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়

ঢাকা পোষ্ট জেসান আরা প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২১

মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি মৌলিক উপাদান। কাজ করা, সম্পর্ক গড়ে তোলা, নতুন কিছু শেখা এবং জীবনের নানা চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা অনেকাংশেই মানসিক সুস্থতার ওপর নির্ভর করে। তবে বাস্তবতা হলো, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আলোচনার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি এখনও পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না।


অথচ বাংলাদেশে বর্তমানে কয়েক কোটি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বসবাস করছেন, যা মোট জনসংখ্যার আনুমানিক ১৬-১৮ শতাংশের সমান। বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ বিষণ্নতা, উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কিংবা মনোদৈহিক উপসর্গের অভিজ্ঞতা লাভ করেন।


যদিও কমিউনিটি-ভিত্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো সীমিত, তবুও দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ, চিকিৎসা এবং ফলো-আপের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এই সমস্যার ব্যাপকতা নির্দেশ করে।


এই বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিকিৎসাসেবার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনো ব্যাপক ভুল বোঝাবুঝি ও নিরুৎসাহিত মনোভাব বিদ্যমান, যার ফলে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে পিছিয়ে যান। সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত।


ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালের মতো বড় শহরে কিছু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্লিনিক রয়েছে, তবুও এই সেবার বিস্তার সীমিত এবং অসমান। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রবেশাধিকার অত্যন্ত কম। স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞের অভাবে অনেক রোগীকে দূরবর্তী শহরে যেতে হয়, যার ফলে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং অনেকে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসা গ্রহণ থেকেই বঞ্চিত হন।


বিষণ্নতা: একটি নীরব ঘাতক


চিকিৎসা সেবার এই অপ্রতুলতার পথ ধরেই বাংলাদেশে বিষণ্নতা একটি নীরব কিন্তু গভীর প্রভাব বিস্তারকারী মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী মনখারাপ, আগ্রহ ও আনন্দহীনতা, আত্মমূল্যবোধের অবনতি এবং দৈনন্দিন কার্যক্ষমতা হ্রাসের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।


গবেষণা-ভিত্তিক অনুমান অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো সময় ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের বিষণ্নতার উপসর্গে ভোগেন। এর অর্থ হলো, বিপুল সংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে এই সমস্যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে।


তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের ঝুঁকি


বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায় যে তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা এই ঝুঁকির ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বিষণ্নতার উপসর্গ অনুভব করেন। পড়াশোনা, জীবনের লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা, পারিবারিক প্রত্যাশা এবং সামাজিক তুলনা এই ঝুঁকি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও