বিএনপির সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে

ঢাকা পোষ্ট ড. সুলতান মাহমুদ রানা প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫২

নির্বাচন-পরবর্তী বিএনপির নতুন সরকার গঠনপর্বে অনেকের মনে নানা ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, গণতান্ত্রিক পরিবেশের সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে বিএনপি কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। বিএনপির সামনে যে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে এ বিষয়ে কেউই দ্বিমত করবে না।


বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির সামনে রয়েছে অগণিত চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে এই মুহূর্তে তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতা গ্রহণ-পরবর্তী রাষ্ট্রকে কীভাবে কার্যকর, গ্রহণযোগ্য ও সুশাসনের পথে মসৃণভাবে চালাবে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো আমাদের শেখায়, সরকার পরিবর্তন মানেই রাষ্ট্রের পরিবর্তন নয়; রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।


আধুনিক রাষ্ট্র ধারণার সূচনায় যার নাম অনিবার্যভাবে আসে, তিনি ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)। ওয়েবারের মতে, রাষ্ট্রের মূল শক্তি হলো বৈধ কর্তৃত্ব, যেখানে আইন, প্রশাসন ও বলপ্রয়োগ জনসম্মত এবং নিয়মভিত্তিক। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় বিএনপির প্রথম ও সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের এই বৈধতা পুনর্গঠন করা।


সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, বিএনপিকে প্রথমেই প্রমাণ করতে হবে যে তারা ক্ষমতায় এসে প্রতিপক্ষ দমন, রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা মামলা-নির্ভর শাসন চালানো থেকে বিরত থাকবে। রাজনৈতিক মামলার পর্যালোচনা, নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় নির্দেশনার বাইরে রাখা—এসব হবে তাদের প্রথম এবং প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। আর এই জায়গায় প্রাসঙ্গিকভাবে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের নিরপেক্ষতা।


দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে আমলাতন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যত ক্ষমতাসীন দলের ছায়ায় পরিচালিত হয়েছে—এ অভিযোগ নতুন নয়। ওয়েবারের আমলাতান্ত্রিক যুক্তিবাদের আলোকে বিএনপির জন্য একটি সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ হবে পদায়ন, বদলি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে দলীয় আনুগত্যের সংস্কৃতি ভাঙা। যদি ডিসি, এসপি কিংবা সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো রাজনৈতিক পুরস্কারের জায়গা হয়ে থাকে, তাহলে সুশাসনের কথা কাগজেই রয়ে যাবে।


বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র কেবল নির্বাচন নয়। এই বাস্তবতাটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সবচেয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন রবার্ট ডাল (Robert A. Dahl)। ডালের বহুত্ববাদী গণতন্ত্র তত্ত্ব অনুযায়ী, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বিরোধী দল, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নিরাপদ পরিবেশ। এ কারণে সুস্পষ্টভাবে বিএনপির প্রথম পর্যায়ের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হবে সংসদকে কার্যকর ও অর্থবহ করা।


বাস্তব প্রশ্ন হলো, বিএনপি কি সংসদে বিরোধী কণ্ঠকে সত্যিকারের কথা বলার সুযোগ দেবে, নাকি সংসদ আবারও কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার যন্ত্রে পরিণত হবে? সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করা, বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে সংসদীয় বিতর্ক চালু করা—এসবই হবে গণতন্ত্রে ফেরার বাস্তব সূচক।


প্রথম পর্যায়ের চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় অর্থনীতি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘পারফরম্যান্স লেজিটিমেসি’(Performance Legitimacy)। জনগণ সরকারকে তখনই বিশ্বাস করে, যখন তারা বাজারে স্বস্তি, চাকরিতে সুযোগ এবং জীবনের নিরাপত্তা অনুভব করে।


বিএনপির সামনে তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল করা এবং ব্যাংকিং খাতের আস্থাহীনতা কাটানো। এখানে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক বৈধতা দ্রুত ক্ষয়ে যাবে, যত শক্তিশালী তাত্ত্বিক বক্তব্যই থাকুক না কেন।


রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ দিয়েছেন স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন (Samuel P. Huntington)। তার মতে, উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর বড় সমস্যা হলো রাজনৈতিক দাবি দ্রুত বাড়ে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা সেই হারে বাড়ে না।


বিএনপির প্রথম পর্যায়ের বড় চ্যালেঞ্জ হবে জনপ্রত্যাশা ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা। হঠাৎ করে অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া কিংবা অবাস্তব জনতুষ্টিমূলক সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে আরও সংকটে ফেলতে পারে। তাই নীতিনির্ধারণে সংযম ও বাস্তবতার বোধ দেখানো জরুরি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও