বাংলাদেশ কেন ‘শত্রু শত্রু খেলার দেশ’

প্রথম আলো আফজাল হোসেন প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৩

বাংলাদেশে একেকজন মানুষের মাথাপিছু শত্রুসংখ‍্যা দিনে একজন করে ধরা হলে মাসের হিসাবে ৩০ জন। আবার হুটহাট করে শত্রুর সংখ‍্যা বাড়েও। ছোট–বড় বিবিধ কারণে তৈরি হওয়া প্রতিদিনের শত্রুদের সংখ‍্যা যদি যোগ করা হয়, গড় হিসাবে সে সংখ‍্যা অর্ধশতকে (কমপক্ষে) গিয়েও ঠেকতে পারে।


কী ভয়ানক! দেশে, সমাজে একজন মানুষকে ৩০ দিনের মাসে কমপক্ষে ৫০ জন শত্রুর ভার বহন করে জীবনযাপন করতে হয়। তাহলে এই মানুষগুলোর ১২ মাসের বছর কেমন কাটে?


কারও কারও মনে হতে পারে, দেশে এখন যার যা খুশি করার, বলার ও ভাবার স্বাধীনতা আছে, তাই ইচ্ছেমতো অযথা একটি বিষয়ের অবতারণা করা হলো। জনসংখ‍্যা বৃদ্ধি, শিক্ষার হার, গড় উচ্চতা, আয়ু ইত‍্যাদি নিয়ে গবেষণা হয়; অতএব এসব বৃদ্ধি পেয়েছে, নাকি কমেছে; তা নিয়ে কথা বলাবলি হলে কারও গায়ে লাগে না; শুনতে হয় শোনেন, অথবা শুনেও শোনেন না। আচমকা এ দেশের মানুষের মাথাপিছু শত্রুসংখ‍্যা নিয়ে মাথা ঘামানো হচ্ছে দেখলে অনেকেরই বিরক্ত হওয়ার কথা। এ কথা শোনার পর হয়তো বহু মানুষ কাঁধে ওজন আছে কি নেই, তা বুঝতে চেষ্টা করবেন।


কয়েকটা প্রমাণ দিলে মনে হবে, দুই পয়সার কথা নয়, কথা মূল‍্যবান। মানুষ এখন কতটা অসহায়—নিজের খরচে খেয়ে–পরে, নিজের বাড়িঘরে থেকে, নিজের দেশে নিজের পথে নিজের মতে চলতে বলতে পারেন না। কোনো কথা বলার আগে ভেবে নিতে হয়, কে কী মনে করতে পারেন!


কার চলা–বলার ধরন ভালো, কারটা মন্দ, সে বিচার করার জন্য বিচারক মানুষ চারপাশে মুখিয়ে আছেন। এই মুখিয়ে থাকা মানুষেরা কোন ক্ষমতা বা যোগ‍্যতায় অন্যের বিচারক? পরের মন্দ দেখার দায়িত্ব কোন মহাজন থেকে প্রাপ্ত—এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় না কাউকে। এ গোষ্ঠীর জীবনের মহান ব্রত ও বিশেষ কর্মই হচ্ছে সকাল–সন্ধ্যা ওর বা তার ভুল ধরা, কার কী দোষ আছে, তা টেনেটুনে বের করা।


‘বোবার শত্রু নেই’—এ কথা বিশ্বাস করে, বুঝে কেউ যদি মনে করেন কথা বন্ধ রাখি, তাতেও রেহাই মিলবে না। অনেকেই বিরক্ত হয়ে মন্তব‍্য করে বসতে পারেন, এই লোক কথা বলেন না কেন, কী আছে তাঁর মনে? অতিবুদ্ধির ঠ‍্যালায় কেউ কেউ আবিষ্কার করে ফেলতে পারেন, এমন লোক আসলে দেশের অভ‍্যন্তরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ভিনদেশের চর।


কথা বললেও বিপদ। কেউ যখন কথা বলেন, নিজের ভাবনামতো প্রকাশ করেন নিজের ভাব, বলেন নিজেরই কথা। এ স্বাভাবিকতা বরদাশত করতে পারেন না অনেক মানুষ। মানুষগুলো অযথা তেতে যান নিজের মতো করে কথা বলা মানুষের ওপর। অতি অদ্ভুত মনমানসিকতা, কথা বলতে হবে, নিজের মুখে পরের কথা; না বললে ধরে নেওয়া হবে প্রতিপক্ষ, বনে যেতে হবে মন্দ, ‍বিপজ্জনক মানুষ।


কারও শত্রু হওয়ার মতো নয়, এমন সাদামাটা মানুষও হুট করে যে কারও শত্রু হয়ে যেতে পারেন। যে কথা নিজের কাছে যুক্তিসংগত, যা উচিত, ভালো কথা; তা–ও বলা নিরাপদ ভাবা যাবে না। অযথা অর্থহীন কথা যখন–তখন, যেখানে–সেখানে বলা চলবে; কিন্তু নিজের মতপ্রকাশ পরের গায়ে ফোসকা তৈরি করে দেয়। উচিত কথা উচিত বলেই শোনা, ভাবা ও হজম করার সাধ্য এখন অনেক মানুষের নেই।


দেশে অনেক মানুষ নিজের মতে অধিক মাত্রায় দেশপ্রেমিী বলে ভাবেন, বিশ্বাস করেন এবং প্রায়ই নানা উপায়ে তা জানান দিতে চান। তা জানান দিতে প্রায়ই তাঁরা এ–সে অজুহাতে কাদের দেশপ্রেমের অভাব জানান দেন। নিজেকে আলাদা করে দেখানোর বহু তরিকা জগতে রয়েছে, কিন্তু ‘অপরকে ছোট করে নিজে বড় হও’—সবচেয়ে সহজ এ উপায়টা বেছে নেন অনেক মানুষ। নিজের জ্ঞানে, বিচারে বলাবলি হয়—অমুক পাকিস্তানের দালাল, কাউকে বানানো হয় ভারতের দালাল। ভালো সাজার ও মন্দ বানানোর, ভেদ বাড়ানোর এ খেলা অনেক প্রাচীন। ৭০–৮০ বছর বয়সী মানুষেরা বলবেন, সেই ছোটবেলা থেকে পছন্দমতো পদের পরিচয়দানের প্রথা চালু রয়েছে দেখে আসছি।


দেশে ধাইয়ের হাতে জন্ম নেওয়া, হারিকেন–জ্বলা গ্রামে বড় হওয়া মানুষকে একসময় চীন, রাশিয়া, মার্কিন সাম্রাজ‍্যবাদের দালাল বানানো হয়েছে। বয়স বেড়েছে আর ক্রমে বোঝা গেছে, বিশেষ একটা তকমা লাগিয়ে দিয়ে দড়ি টানাটানির খেলা আসলে স্বার্থবাদ, মানুষকে ভাগ করে নিজ নিজ লাভ কামানোর বুদ্ধি; যে বুদ্ধিতে মানুষের মধ‍্যে ভেদাভেদ বেড়েছে, বেড়েছে ঘৃণাও। এমন গোষ্ঠীস্বার্থকেন্দ্রিক মানসিকতায় মানুষের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব বেড়েছে, মানুষের হতাশা বেড়েছে, মানুষ হারিয়েছে সংবেদনশীলতা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও