সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, যার কোনো বিকল্প নেই

ডেইলি স্টার প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৯

পরপর তিনটি কারচুপির নির্বাচনের পর অবশেষে বাংলাদেশের মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে। দেশের মানুষকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। যারা সেই চেষ্টা করছে, তারা জনরোষে পড়বে এবং কখনোই দেশের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না।


আমরা সেই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। নিঃসন্দেহে সেখানে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় নানা সমালোচনা হবে। কিন্তু গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বেপরোয়া হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ স্বীকার ও এর জন্য ক্ষমা না চাওয়ায় দলটি জনগণের কাছ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।


শান্তিপূর্ণভাবে আসন্ন নির্বাচন আয়োজনের জন্য নাগরিক জীবনে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে হবে। আমরা প্রতিটি গোষ্ঠীর প্রতিবাদ করার অধিকার স্বীকার করি, সমর্থন করি। তেমনি অন্যদের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহের অধিকার, প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করা, অফিসে যাওয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, ব্যাংক চালু থাকা, খুচরা দোকানদার ও দরিদ্র হকারদের যৎসামান্য আয় অব্যাহত রাখা এবং রিকশাচালকদের পরিবারের খাবার জোগানোর অধিকারকেও উপেক্ষা করতে পারি না।


অর্থাৎ, মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য হয়তো সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া নয়। কিন্তু বাস্তবে সেটাই হয়ে যায়। প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজধানীজুড়ে যানজটই তার স্পষ্ট প্রমাণ।


আবেগপ্রবণ জাতি হওয়ায় আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, দেশের ভেতরে আমরা যা-ই করি না কেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার অংশ হতে হলে আমাদের কিছু আন্তর্জাতিক মান ও চর্চা মেনে চলতেই হবে। যাতে আমরা বিশ্বে একটি বিশ্বাসযোগ্য অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি পাই। উদাহরণস্বরূপ, যদি আমরা তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে চাই, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে নির্দিষ্ট শ্রম, পরিবেশ ও মান নিয়ন্ত্রণের শর্ত পূরণ করতে হবে।


একইভাবে, যদি আমরা বিদেশি বিনিয়োগ চাই, তাহলে একটি ন্যায়সঙ্গত আইনি কাঠামো, দৈনন্দিন জীবনে নির্দিষ্ট মাত্রার নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরির মতো শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব করতে পাইলেই তারা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে। ভিয়েতনাম কমিউনিস্ট দেশ হলেও পুঁজিবাদী বিশ্ব সেখানে বিনিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতা করছে। কেন? সেই প্রশ্ন কি আমাদের ভেতরে উদয় হওয়া উচিত না?


নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই মনে হচ্ছে অতীত থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। ৫৪ বছর পরও কেন আমাদের গণতন্ত্র এত দুর্বল? অতীতে আমাদের কী কী ভুল ছিল? সেগুলো থেকে কি আমরা শিখেছি? যদি না শিখে থাকি, তাহলে কেন শিখিনি? কেন এখনো আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে 'শত্রু' হিসেবে দেখি?


যতদূর মনে পড়ে, ১৯৭৩ সাল থেকে সংসদ মূলত একটি রাবার স্ট্যাম্প হিসেবেই কাজ করেছে। তা না হলে কীভাবে আমরা সংবিধান বদলে ফেললাম, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলাম এবং বাকশাল প্রতিষ্ঠা করলাম? এমনকি সংসদে বিরোধী দলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকার পরও কেন সংসদ স্বচ্ছতার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেনি এবং নির্বাহী বিভাগকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হলো?


যখন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ব্যাপক আকার ধারণ করল, তখন কেন একজন সংসদ সদস্যও প্রতিবাদ জানাতে দাঁড়ালেন না? প্রায়শই দেখা গেছে, সংসদ সদস্যরা ভোটারদের সেবা করার নৈতিক সাহস দেখাতে ব্যর্থ হয়ে দলীয় যন্ত্রের একটি চাকা হিসেবেই থেকে গেছেন।


অতীত থেকে শেখার অনেক কিছু আছে—ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দল উভয়ের আচরণ থেকেই। আমরা যখন আন্তরিকতা ও অনেক আশা নিয়ে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন আমাদের ভাবতে হবে কেন অতীতের এতগুলো নির্বাচন বিতর্কিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত আমরা মোট ১২টি নির্বাচন করেছি—১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬, জুন ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪। এর মধ্যে মাত্র চারটি—১৯৯১, জুন ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮—গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। বাকি আটটি ব্যাপকভাবে বিতর্কিত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও