মাইক্রোফিকশন: ‘শুদ্ধ’ আর ‘ভুল’-এর গল্প

জাগো নিউজ ২৪ মোহিত কামাল প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৩:৫৩

শ্রেণিকক্ষে গণিত শিক্ষকের জন্য অপেক্ষা করছিল কো-এডুকেশনে পড়ুয়া দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা।


কখনো নিয়মের ব্যতিক্রম হয় না। এই মহান শিক্ষক যথাসময়ে ক্লাসরুমে ঢোকেন, হাফহাতা সাদা শার্ট পরে টিপ টপ চলেন। আজ স্যার আসতে দেরি হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা হইচই শুরু করেছে।


ক্লাস ক্যাপ্টেন, 'শুদ্ধ' উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 'যারা বেশি চিৎকার-চেঁচামেচি করবে, বেশি দুষ্টুমি করবে, বেশি ঝামেলা করবে, ব্ল্যাকবোর্ডে তাদের নাম তুলে রাখব। স্যার এসে তখন শাস্তি দিবেন।'


পেছনের বেঞ্চি থেকে একজন উঠে দাঁড়িয়ে বলল, 'তুমি ঠিক করছ না, শুদ্ধ। আমাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা তোমার উচিত হবে না। আমরা হইচই করছি, এটাই তোমার শুদ্ধতার শরীরে শুভ্র পোশাক জড়িয়ে দিয়েছে আর হইচইয়ের মাধ্যমে আমরা আনন্দ প্রকাশ করছি, করব। স্যার এলে চুপ হয়ে যাব। এটা আমাদের বয়সের বৈশিষ্ট্য । আমাদের এই বৈশিষ্ট্যে বাধা দেওয়া চলবে না।'


দীপ্ত কণ্ঠে প্রতিরোধের আওয়াজ ওঠায় শুদ্ধ নিজ আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে পেছনের কোনার বেঞ্চের দিকে একবার তাকাল। সেখানে তখনো দাঁড়িয়ে আছে চশমা পরা একটি মেয়ে যে সব সময় ভুল করে। সবাই তার নাম দিয়েছে 'ভুল'।


শুদ্ধ অহংকারী কণ্ঠে বলল, 'ভুল, তুমি ভুলভাল কথা বোলো না। ইতোমধ্যেই তোমার আসন ভুলের খাতায় চলে গেছে। আমার কাজে বাধা দিয়ো না। আমি সঠিক কাজটিই করছি, ভুল করি না, করছিও না।'


নত হলো না ভুলের মাথা। উঁচুতে রেখেই বলল, 'সব সময় সঠিক কাজ করি, এমন ভাবা ঠিক নয়। কিছু করতে গেলে ভুল হতে পারে। ভুল না-করলে শুদ্ধপথে এগোব কীভাবে? ভুল যে হয়েছে সেটা কীভাবে বুঝব? তুমি বরং ক্ষমতা পেয়ে অহংকারের চূড়ায় উঠে গেছো। নেমে এসো । নিজেকে হনু ভেবো না।


স্তব্ধ হয়ে গেল শুদ্ধ। তার মধ্যে আলাদা একটা অহংকার ছিল। ভাবত সে সবসময় সঠিক কাজটিই করে। তার কাজে ভুল থাকতে পারে, কখনো স্বীকার করে না, নিজেকে অনুভব করে কেবলই শুদ্ধরূপে। আচমকা আপন ভাবনাতত্ত্ব আছড়ে পড়ল শ্রেণিকক্ষে। তখনই দেখল গণিত স্যারের পরিবর্তে এক অচেনা ম্যাম এসে ঢুকলেন ক্লাসরুমে। হইচই থামিয়ে সবাই দাঁড়িয়ে গেল।
'নিশ্চয়ই তোমরা অবাক হচ্ছ আমাকে দেখে।'

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও