প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা এবং নিউটনের বড় ও ছোট বিড়ালের গল্প

প্রথম আলো রঞ্জু খন্দকার প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৭

গল্পটা হয়তো অনেকের জানা। তবু বলি। ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতেন। সে সময় তাঁর একটি পোষা বিড়াল ছিল। সেটি প্রায়ই ঘরের বাইরে যাচ্ছিল, আর আসছিল। এতে বারবার দরজা খুলতে হওয়ায় নিউটনের মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটে। এ থেকে বাঁচতে তিনি কাঠমিস্ত্রি ডেকে এনে দরজার নিচে বড় ফুটো করে নেন, যাতে বিড়ালটি অনায়াসে ভিতর-বাহির করতে পারে। কিছুদিন পর বিড়ালটি বাচ্চা দেয়। তখন নিউটন আবার কাঠমিস্ত্রিকে ডেকে এনে আরেকটি ছোট ফুটো করতে বলেন, যাতে বিড়ালছানারাও যাওয়া-আসা করতে পারে। তখন কাঠমিস্ত্রি বলেন, ‘আগে থেকে ফুটো তো করাই আছে। আবার কেন?’ জবাবে নিউটন বলেন, ‘বড় ফুটো দিয়ে তো বড় বিড়ালটা যায়, ছানার জন্য ছোট ফুটো লাগবে না?’


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে সরকারের অবস্থান অনেকটা বিজ্ঞানী নিউটনের মতো হতে চলেছে। সরকার যদি কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষাই নিতে চায়, তবে সেটা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) কেন নয়?


এমনিতে বিদ্যালয়গুলো বছরান্তে সব শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েই থাকে, সেটাই শুধু কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ে সেখান থেকেই তো ‘টপার’দের বৃত্তি দেওয়া যায়? আলাদা করে শুধু শ্রেণির সেরাদের পরীক্ষা নেওয়া অন্যদের সঙ্গে বৈষম্য নয়?


এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, অনেক শিক্ষাবিদ প্রাথমিকে পাবলিক পরীক্ষারই বিরোধী। তাঁদের ভাষ্য, অল্প বয়সে পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার্থীই বানায়। শুধু শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাইড বই পড়া ও কোচিংমুখী প্রবণতা বাড়ে। মানে তেমন ভালো ফল বয়ে আনে না। এই শিক্ষাবিদেরা এমনকি বৃত্তি পরীক্ষারও ঘোর বিরোধী।


এ বিষয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গণসাক্ষরতা অভিযানের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়। তা ছাড়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পরামর্শক কমিটিও এ ধরনের সুপারিশ জমা দিয়েছে।


ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও এই মতের সমর্থক। কিন্তু শিক্ষাবিদদের সব পরামর্শ উপেক্ষা করে সরকার যদি বৃত্তি পরীক্ষাই নেয়, আমার মত হলো, তাহলে তা সবার জন্য কেন নয়? কেন তা প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী নয়?


এটা ঠিক, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর মতো পরীক্ষা নেওয়া সরকারের জন্য বিশাল ঝক্কির। কিন্তু সেটা তো এর আগে দীর্ঘ সময় করাও গেছে। প্রাথমিকে পাবলিক পরীক্ষা নিলে গাইড বই ও কোচিংমুখী প্রবণতা বাড়বে, সেটাও ঠিক। কিন্তু তা কি এখন থেমে আছে? শহরের ভালো স্কুল বা ক্যাডেটে ভর্তি কোচিং থেকে শুরু করে ভার্সিটি, বিসিএস—কোথায় নেই কোচিং? সমস্যা তো শুধু প্রাথমিকে নয়। সরকার শিক্ষা নিয়ে কোচিং–বাণিজ্য দূর করতে চাইলে সব কটির বিরুদ্ধেই কঠোর হতে পারে।


এর আগে পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে প্রণীত জাতীয় শিক্ষানীতিতেও প্রাথমিকে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। এরপরও ২০০৯ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়ন নেওয়ার পরিবর্তে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসি) আয়োজন করা হয়। তা চলে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। এরপর করোনাভাইরাসের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়।


করোনা বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে যে ক্ষতি করেছে, তা সীমাহীন। এর মধ্যে একটিই ভালো কাজ করেছে, তা হলো ওই—পিইসি পরীক্ষা তুলে দেওয়া। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তা আবার ফিরে আসে খণ্ডিতভাবে—প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হিসেবে। ২০২২ সালে এ পরীক্ষা আবার চালু হয়। যদিও মাঝখানে নানা কারণে তা থেমে থেমে চলেছে, তবে নতুন সরকার ঘোষণা দিয়েছে, এবার মধ্য এপ্রিল থেকেই বৃত্তি পরীক্ষা আবার চালু হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও