বাংলাদেশের দিক থেকে অনেক দিন ধরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাতের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু ভারতের দিক থেকে এক ধরনের উপেক্ষার মনোভাব দেখানো হয়েছে। শেষ পর্যযন্ত অবশ্য বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে এই প্রতীক্ষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। এই বৈঠক নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দুই দেশের মধ্যে জমে থাকা শীতল সম্পর্ক উষ্ণ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি, তবে এটি ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়।
বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের বহুমুখী প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা বিমসটেক (BIMSTEC) একটি সম্ভাবনাময় আঞ্চলিক উদ্যোগ। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড নিয়ে বিমসটেক নামে এটি গঠিত হয়, যা পরে মিয়ানমার, ভুটান ও নেপাল যুক্ত হওয়ার ফলে বিমসটেক নামে পরিচিত হয়। এই সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করা। আঞ্চলিক সহযোগিতা যদি কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য লাভজনক হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য বিমসটেক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে। সাফটা (SAFTA) বা সার্ক (SAARC) যখন রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তখন বিমসটেক একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে বিমসটেকের সাফল্যের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা অপরিহার্য। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কোন্নয়ন বিমসটেকের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ।