নদীভাঙন থেকে বরগুনার মানুষকে বাঁচান

প্রথম আলো সম্পাদকীয় প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫

একসময়ের সচ্ছল গৃহস্থের বিঘা বিঘা জমি আর বসতভিটা চলে যাচ্ছে বিষখালী নদীতে। পরপর দুবার ভাঙনের শিকার হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয় নিতে হচ্ছে অন্যের জমিতে। বরগুনার নদ-নদীঘেরা উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার মানুষের জীবনসংগ্রামের এক করুণ বাস্তবতা এটি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বরগুনার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদের গ্রাসে জেলার সাড়ে ৭২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের করুণ দশার চিত্র। এই বিপুল পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের কারণে আজ প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষের ভিটেমাটি ও জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে।

উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন কোনো নতুন বিপর্যয় নয়, কিন্তু এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘসূত্রতা ও উদাসীনতা পরিস্থিতিকে ক্রমাগত জটিল করে তুলছে। ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতেই পাথরঘাটার বলেশ্বর নদতীরবর্তী বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রায় দুই দশক অতিক্রম হতে চললেও সেখানে আজও কোনো টেকসই ও মজবুত বেড়িবাঁধ গড়ে ওঠেনি। নদী বা সাগরের পানি কমতে শুরু করলে স্রোতের টানে তীর ও বাঁধ ভাঙার মহোৎসব শুরু হয়, আর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কেবল কিছু ‘জিও ব্যাগ’ ফেলে দায়িত্ব শেষ করে। এই সাময়িক সমাধান দিয়ে যে বিধ্বংসী নদীভাঙন ঠেকানো যায় না, ৮৮ বছরের পুরোনো কালিকাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান অস্তিত্বসংকটই তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ।


পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, বরগুনার ছয়টি উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ সাড়ে ৭২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধকে সিসি ব্লকের মাধ্যমে টেকসই করতে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বাজেটের হিসাবটি বড় মনে হতে পারে, তবে নদীর পেটে তিলে তিলে বিলীন হয়ে যাওয়া হাজার হাজার একর কৃষিজমি, বসতভিটা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সর্বস্ব হারানো মানুষের মানবিক ও অর্থনৈতিক ট্র্যাজেডির তুলনায় এই বিনিয়োগ মোটেও বেশি নয়। প্রতিবছর স্থায়ী বাঁধের অভাবে হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে নদীভাঙনজনিত শরণার্থীতে পরিণত হচ্ছে, যা দীর্ঘ মেয়াদে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও