জনসংখ্যা: বাংলাদেশের জন্য সম্পদ, না বোঝা?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬

প্রতি বছর ১১ জুলাই পালিত হয় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। দিবসটি কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধির হিসাব-নিকাশের জন্য নয়; বরং জনসংখ্যা, উন্নয়ন, মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি উপলক্ষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বেগের ধরন ভিন্ন। কোথাও জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির কারণে খাদ্য, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ নিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও জন্মহার এতটাই কমে গেছে যে শ্রমশক্তির ঘাটতি ও বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাপ রাষ্ট্রকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।


বাংলাদেশের মতো একটি দেশে তাই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—জনসংখ্যা কি আমাদের জন্য সম্পদ, নাকি বোঝা? এর উত্তর সরল নয়। কারণ জনসংখ্যা নিজে কখনো সম্পদ বা বোঝা নয়; রাষ্ট্র ও সমাজ কীভাবে সেই জনসংখ্যাকে গড়ে তোলে, সেটিই নির্ধারণ করে মানুষ দেশের শক্তি হবে, নাকি সংকটের কারণ হবে।


জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের জনসংখ্যা বর্তমানে ৮০০ কোটিরও বেশি। পৃথিবীর ইতিহাসে এত মানুষ আগে কখনো ছিল না। একই সঙ্গে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে খাদ্য, পানি, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয়, নগরায়ণ ও অভিবাসনের মতো বৈশ্বিক ইস্যুগুলোও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে গেছে।


বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর ছোট দেশগুলোর একটি হলেও জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজারের বেশি মানুষের বসবাস পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখা যায়। ফলে সীমিত ভূমি, কৃষিজমি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অবকাঠামোর ওপর জনসংখ্যার চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।


অনেকেই এই বাস্তবতাকে বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখেন। তাদের যুক্তি, অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে শহরে যানজট বাড়ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাপ বাড়ছে, স্বাস্থ্যসেবা পর্যাপ্ত নয়, কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ঢাকা শহরের দিকে তাকালেই এই যুক্তির বাস্তবতা স্পষ্ট হয়। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শহর হিসেবে ঢাকায় বসবাস, চলাচল এবং মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।


তবে জনসংখ্যাকে কেবল বোঝা হিসেবে দেখার মধ্যেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ পৃথিবীর ইতিহাসে বহু দেশ জনসংখ্যাকে উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে রূপান্তর করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা পরবর্তীকালে চীন যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, তার পেছনে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদ ছিল সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাই আধুনিক অর্থনীতির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।


বাংলাদেশও তার কিছু ইতিবাচক উদাহরণ দেখিয়েছে। স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে প্রায়ই “তলাবিহীন ঝুড়ি” বলা হতো। কিন্তু গত পাঁচ দশকে কৃষি উৎপাদন, তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশটি উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এসব ক্ষেত্রেই জনসংখ্যা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও