ফিরে দেখা ইতিহাসের দীর্ঘতম জুলাই

প্রথম আলো মহিউদ্দিন আহমদ প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮

আবার এসেছে আষাঢ় আকাশ ছেয়ে—


আসে বৃষ্টির সুবাস বাতাস বেয়ে॥


এই পুরাতন হৃদয় আমার আজি        


পুলকে দুলিয়া উঠিছে আবার বাজি


নূতন মেঘের ঘনিমার পানে চেয়ে॥


রবীন্দ্রনাথের এই গীতিকবিতা ১৩১৭ বঙ্গাব্দের (১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ) আষাঢ় মাসে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ‘আষাঢ়’ শিরোনামে প্রথম প্রকাশিত হয়। প্রতিবছর আমরা গ্রীষ্মের গরমে হাঁসফাঁস করি। তারপর বৃষ্টি এলে আমাদের প্রাণ জুড়ায়। চাষিরা কেউ জমি থেকে পাট তোলার আয়োজন করেন, কেউ জমি তৈরি শুরু করেন আমন ধানের জন্য।


বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এটি ব্যস্ততম মাসগুলোর একটি। নাগরিক জীবনে এর ছোঁয়া নেই। নগরে বৃষ্টিকে দেখা হয় নেতিবাচকভাবে। পত্রিকায় শিরোনাম হয়, টানা বৃষ্টি কিংবা ‘খারাপ’ আবহাওয়ার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। অফিসযাত্রীদের ভোগান্তি। একই দেশের দুই ছবি। গ্রামের কোটি কোটি কৃষকের অফিস হলো মাঠে। বৃষ্টি তাঁদের কাছে পরম আকাঙ্ক্ষার ধন। নগরে এটি উৎপাত।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জুলাই নানা দিবসে ভরপুর। স্বাস্থ্য ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ‘বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস’ (১১ জুলাই), তরুণসমাজকে দক্ষ ও কর্মঠ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস’ (১৫ জুলাই), বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বিশ্বশান্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ‘নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস’ (১৮ জুলাই), বিপন্ন প্রজাতির বাঘ ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়াতে ‘আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস’ (২৯ জুলাই) ইত্যাদি।


এ দিবসগুলো আসে আর যায়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কিছু এনজিও এসব দিবস উপলক্ষে একই রকম টুপি আর টি-শার্ট পরে পদযাত্রা-সেমিনার করে। তারপর ভুলে যায়।


দুই বছর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই এসেছিল প্রবলভাবে। তরুণদের দৃপ্ত পদচারণে ক্যাম্পাস আর রাজপথ হয়ে উঠেছিল মুখর। অনুঘটক ছিল ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’। আমরা প্রবেশ করলাম ইতিহাসের দীর্ঘতম জুলাইয়ে। এটি প্রবল বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিল ক্ষমতাসীনদের।


চব্বিশের জুলাইকে দেখা যায় নানান আঙ্গিকে, নানান দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মোটাদাগে দুটি জনগোষ্ঠী। একটি গোষ্ঠী মনে করে, তারা জয়ী হয়েছে। তাদের কাছে এটি গণ-অভ্যুত্থান বা বিপ্লব। অন্য গোষ্ঠী হেরে গেছে। তারা মনে করে, তারা এ ঘটনার ভিকটিম বা শিকার। তারা এর পেছনে দেখে ষড়যন্ত্র।


ষড়যন্ত্রতত্ত্বের মর্ম হলো, কিছু লোক বসে ফন্দি এঁটে সরকার হটিয়ে দিয়েছে। কারণ, দেশটা এতই উন্নতি করছিল যে এটি তাদের আর সহ্য হচ্ছিল না। তারা দেশের ‘ফেরেশতাতুল্য’ নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিয়ে দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে। দেশের অনেক লোক এই তত্ত্ব বিশ্বাস করেন। তাঁরা মনে করেন, তাঁদের নেতা ছিলেন ‘ঈশ্বরতুল্য’। তাঁর কোনো ভুল হতে পারে না। তিনি কোনো ভুল করেননি। তাঁর চেয়ে বড় দেশপ্রেমিক এ দেশে আর নেই। দেশের যারা ভালো চায় না, সেই কুচক্রীরা বিদেশি শত্রুদের সঙ্গে সলাপরামর্শ করে সরকারের পতন ঘটিয়ে দিয়েছে। আমেরিকা এটি ঘটিয়ে দিয়েছে।


ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নতুন নয়। ১৯৭১ সালের কথা আমরা জানি। পাকিস্তান ভেঙে গেল। জন্ম হলো বাংলাদেশের। মাঝে অনেক রক্ত ঝরল। কেন এমন হলো? এখানেও আছে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব। পাকিস্তান তো সোনার দেশ ছিল! দুধ আর মধুর নহর বয়ে চলত!পাকিস্তানের শত্রুদের এটি সহ্য হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন তার ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ভারতকে দিয়ে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ বানিয়ে দিয়েছে। দেশের মানুষ এটি চায়নি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মানুষের কোনো ক্ষোভ ছিল না।


ষড়যন্ত্রতত্ত্ব অনেক পুরোনো। যারা হেরে যায়, তারা এটি আঁকড়ে নিজেদের ন্যায্যতা দিতে চায়। তারা নিজেদের কর্মকাণ্ডকে বলে ‘পরিকল্পনা’ আর ভিন্নমতের লোকদের কর্মকাণ্ডকে বলে ‘ষড়যন্ত্র’। দুটি একই জিনিস। কখনো কখনো একটা হেরে যায় অন্যটির কাছে। এভাবেই এগিয়ে যায় সমাজ, ইতিহাস।


আসুন, আমরা দুই বছর আগের জুলাইয়ের দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকাই। সেখানে কী দেখি? সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর ব্যানারে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী সমবেত হন। সেখান থেকে তাঁরা মিছিল করে টিএসসির সামনে রাজু ভাস্কর্যের কাছে জড়ো হন। এই সমাবেশ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।


এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে মিছিল করেন। তাঁরা ১১টা ৫৭ মিনিট থেকে ১০ মিনিট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রতীকী অবরোধ করেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একই দাবিতে নিজ নিজ চত্বরে কর্মসূচি পালন করেন। এভাবেই শুরু।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও