এডিপি বাস্তবায়নের হার সব খাতেই কম কৃষিতেও কয়েক বছর ধরে কমছে
ড. রুশিদান ইসলাম রহমান, সাবেক গবেষণা পরিচালক, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)। সংস্থাটির কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ছিলেন দীর্ঘ সময়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও। বর্তমানে তিনি প্ল্যানিং কমিশনের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের একজন সদস্য। তার সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রাধান্য পেয়েছে কৃষি, গ্রামীণ অকৃষি উন্নয়ন, দারিদ্র্য, বৈষম্য, বেকারত্ব, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষি খাতের অবস্থান প্রসঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবরিনা স্বর্ণা
২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। দেশের কৃষি খাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতার পরিপ্রক্ষিতে এটা যথেষ্ট কিনা?
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়নের জন্য সব খাতেই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমাদের আকাঙ্ক্ষা উঁচু রাখতেই হবে, কিন্তু অর্থসংস্থান কঠিন। কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হলে হয় অন্য খাতে টান পড়বে, নয় বাজেটের আকার ও ঘাটতি আরো বাড়বে। সেদিকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক। তাই আমার মনে হয় এখন মনোযোগ দেয়া দরকার বরাদ্দ যা আছে সেটার বাস্তবায়নের মান এবং পরিমাণ দুদিকেই। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে আর একটা বিষয় মনে রাখা দরকার। এ বাজেটে কিছু কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এবং আমাদের যেসব শিল্প কৃষি উপকরণ প্রস্তুত করে তার উপকরণে আমদানি শুল্ক ছাড় বা হ্রাস করেছে। তাতে কৃষি উপকরণের দাম কমে এ খাত উপকৃত হবে। তবে সেটা অবশ্যই নির্ভর করছে উপকরণের উৎপাদন খরচ হ্রাসের সুবিধা সেটার দাম কমাতে সাহায্য করছে নাকি পুরো সুবিধাটা শিল্প মালিক নিয়ে নিচ্ছে তার ওপর। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে, দাম কম রেখেও এসব শিল্প তার লাভ বজায় রাখতে পারে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- এডিপি
- এডিপি বাস্তবায়ন