রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিক, নীরব ঘাতকের মুখোমুখি আমাদের ভবিষ্যৎ

ঢাকা পোষ্ট আনোয়ার খসরু পারভেজ প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩

গবেষণাগারের অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে প্রতিদিন এক অদৃশ্য জগতের মুখোমুখি হতে হয় আমাকে। যে জগত খালি চোখে দেখা যায় না, অথচ পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ধরে রাখে। ইদানীং সেই অণুবীক্ষণ যন্ত্র এমন এক সত্তা ধরা পড়ছে, যা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি নয়। মানুষই এর সৃষ্টিকর্তা। অতি ক্ষুদ্র এই প্লাস্টিক কণাকে বিজ্ঞানের ভাষায় আমরা বলি ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ ও ‘ন্যানোপ্লাস্টিক’।


ভয়ানকভাবে প্লাস্টিক দূষণের মুখে পড়ছে পৃথিবী। চিন্তার বিষয় হলো, প্লাস্টিক এখন আর কেবল বুড়িগঙ্গা বা শীতলক্ষ্যার পানিতে ভেসে থাকা কোনো দৃশ্যমান বর্জ্য নয়। প্রাণ ও পরিবেশ কেউই যেন রেহাই পাচ্ছে না প্লাস্টিকের থাবা থেকে। নদীর পলি, সাগরের মাছ, ঘরের ধূলিকণা আর বাতাস ডিঙিয়ে এটি ঠাঁই করে নিয়েছে আমাদের পরিপাকতন্ত্র, ফুসফুস এবং সরাসরি রক্তপ্রবাহে।


মানুষের রক্ত ও বুকের দুধে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ মিলেছে বেশ আগেই। এবার মানুষের নাড়ি ও ধমনিতেও ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের খোঁজ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। মানবস্বাস্থ্যের ওপর মাইক্রোপ্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন তারা।


স্পেনের বার্সেলোনার অটোনোমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চায়ের টি-ব্যাগ থেকে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়, যা শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, পলিমার-ভিত্তিক উপাদান থেকে তৈরি বাণিজ্যিক টি-ব্যাগ ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অন্যতম উৎস। টি-ব্যাগ থেকে কোটি কোটি ক্ষতিকারক ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা উন্মুক্ত হচ্ছে।


পলিথিনের স্তূপ বা সমুদ্রে ভেসে থাকা প্লাস্টিক বোতলের চেয়েও বহুগুণ বিপজ্জনক এই অদৃশ্য কণা। মানুষের অজান্তেই শরীরে এক নীরব আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে এটি, যার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য ঝুঁকি আর প্রাণঘাতী ব্যাধি দিয়ে।


চোখের আড়ালের বিজ্ঞান: মাইক্রোপ্লাস্টিক কী?


সহজ ভাষায়, ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট যেকোনো কঠিন প্লাস্টিক কণা হলো ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’। আর এর আকার যখন মানব কোষের চেয়েও বহু গুণ ক্ষুদ্র (১ মাইক্রোমিটারের কম) হয়ে যায়, তখন তাকে বলে ‘ন্যানোপ্লাস্টিক’।


এগুলো প্রধানত দুটি উপায়ে পরিবেশে আসে।


প্রাথমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক: শিল্পকারখানায় সরাসরি ক্ষুদ্র আকৃতিতেই এগুলো তৈরি হয়। যেমন ফেসওয়াশ, টুথপেস্টে ব্যবহৃত ‘মাইক্রোবিড’ বা সিনথেটিক কাপড়ের ফাইবার। দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)। সংস্থাটির গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়।


মাধ্যমিক মাইক্রোপ্লাস্টিক: রোদে, বাতাসে আর পানির চাপে প্রকৃতিতে ফেলে দেওয়া পলিথিন, বোতল বা গাড়ির টায়ার ভেঙে যখন কোটি কোটি টুকরোয় পরিণত হয়, তখন এগুলো তৈরি হয়। মাধ্যমিক মাইক্রোপ্লাস্টিকই পরিবেশে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।


একটি প্লাস্টিক বোতল শত শত বছর অবিকৃত থাকতে পারে। কিন্তু সেই দীর্ঘ সময়ে এটি ভেঙে কোটি কোটি সূক্ষ্ম কণায় রূপ নিয়ে মাটি, পানি ও বাতাসে বিলীন হয়ে যায়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও