ডনাল্ড ট্রাম্প বাঁচলেও ইরান চুক্তির অপমান থেকে নেতানিয়াহুর রক্ষা নেই
গত সপ্তাহে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের যে প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বড় ধরা খেয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, দখলদারিত্ব ও গাজায় গণহত্যার সঙ্গে যুক্ততার কারণে ইতিহাসে তিনি ঘৃণিত থাকবেন। গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন কিংবা ইরান—প্রায় সব সংকটেই নেতানিয়াহুর প্রধান অস্ত্র ছিল সামরিক শক্তি ও সহিংসতা। কিন্তু এই নীতি সমস্যা সমাধান করেনি, অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধ ছিল নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দর্শনের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানকে পরাজিত করা সম্ভব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। ডনাল্ড ট্রাম্প জোর দাবি করছেন, তার মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা বাইরে থেকে যতটা দুর্বল মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। বিশ্বজুড়ে এ দাবি নিয়ে মানুষ সন্দেহ ও উপহাস করলেও ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হবেন। কিন্তু নেতানিয়াহুর জন্য এর পরিণতি অনেক গুরুতর। তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক পতনের গল্প যেন এক দীর্ঘ অভিযোগনামা। কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিরোধিতা করছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হন। এরপর গাজায় গণহত্যা সংঘটিত করে সেটির প্রতিশোধ নেন। ক্ষমতা ধরে রাখতে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের সরকারে পদ দেন, আর তা দেশে-বিদেশে হতাশা ও বিতর্কের জন্ম দেয়। ২০১৫ সালের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইরান পারমাণবিক চুক্তিকেও তিনি অবজ্ঞা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পের চুক্তি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ এ বছরের সবচেয়ে বিপর্যয়কর সংঘাতের পথ তৈরি করে।