You have reached your daily news limit

Please log in to continue


বেনজীরকে ফেরত আনা কি সত্যিই সহজ?

দুবাইয়ে পুলিশের কাছে আটক বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব কি না; কত দিনে তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে কিংবা বাংলাদেশ চাইলেই আরব আমিরাত তাকে ফেরত দিতে বাধ্য কি না—জনমনে এরকম নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও তাকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে দুবাই পুলিশ—এমন খবরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রটেছিল। তবে তাকে ছেড়ে দেওয়ার খবরটি নেহায়েত গুজব বলেই মনে হয়। কেননা, সুনির্দিষ্ট মামলায় ইন্টারপোলের সহায়তায় আটকের পরপরই কোনো আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

১৪ জুন জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দুর্নীতির মামলায় বেনজীর আহমেদকে আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটিকে ‘পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। পাশাপাশি এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।’ বেনজীর আহমেদকে ১২ জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিগগির তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বিবৃতির আগেই একাধিক সংবাদমাধ্যমে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়। এরকম একজন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তিকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হলেও সেটি দুদিন পরে কেন জানাজানি হলো বা সরকার কেন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল, সেটি স্পষ্ট নয়।

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয় আদালত। এর আগে ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বেনজীর এবং তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে দুদক।

সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠাতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাবে। এনসিবি (পুলিশ সদর দপ্তরের একটি শাখা, যারা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে) আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করবে।

প্রশ্ন হলো, দুবাই থেকে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব এবং এটি কত দিনের মধ্যে হতে পারে বা আমিরাত সরকার তাকে ফেরত দেবে কি না বা তাকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য কি না?

২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দিবিনিময় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ওই সময় আরব আমিরাতের কারাগারে প্রায় ৯০০ জন সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছিলেন। তখন বাংলাদেশ সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, যেসব বন্দির সাজার মেয়াদ ছয় মাস বাকি, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই এই চুক্তি প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, সাজার বাকি মেয়াদ তাদেরকে দেশের কারাগারে ভোগ করতে হবে। আর যাদের তিন মাস সাজার মেয়াদ বাকি থাকবে, তারা এর অন্তর্ভুক্ত হবেন না। তাদের সে দেশেই সাজা ভোগ করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হবে। প্রশ্ন হলো, তাকে বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে কেন আনা হবে না?

তার কারণ এই যে, বন্দিবিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ফেরত আনা হয় যারা সংশ্লিষ্ট দেশের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন, তাদের। যেমন—নানা কারণে আরব আমিরাতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে যারা সে দেশের কারাগারে আছেন এবং যাদের সাজার মেয়াদ তিন মাসের বেশি, তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে বন্দিবিনিময় চুক্তির প্রয়োজন। কিন্তু বেনজীর আহমেদ যেহেতু দুবাইয়ে সাজাপ্রাপ্ত নন বা তিনি সেই দেশের কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হননি, বরং তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাংলাদেশের মামলায় এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে—ফলে তার ক্ষেত্রে বন্দিবিনিময় চুক্তি প্রযোজ্য হবে না। তাকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন প্রত্যর্পণের অনুরোধ।

দুবাই থেকে বাংলাদেশে আসামি ফেরানোর উদাহরণ রয়েছে। গত ৬ মে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামি আরিফ সরকারকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

প্রত্যর্পণ অনুরোধের জন্য কিছু শর্ত মানতে হয়। যেমন—যে অপরাধের জন্য প্রত্যর্পণ চাওয়া হয়েছে, সেটি আরব আমিরাত এবং অনুরোধকারী দেশে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে হবে এবং এর শাস্তি অন্তত এক বছর কারাভোগ বা তার বেশি হতে হবে। বেনজীর আহমেদকে যে মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি বাংলাদেশ ও আরব আমিরাত উভয় দেশেই অপরাধ এবং এর সাজা এক বছরের বেশি কারাদণ্ড। সুতরাং, এই যুক্তিতে আরব আমিরাত সরকার তাকে ফেরত দিতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন