বর্ষার সৌন্দর্য থেকে নগরের দুর্ভোগ

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৪

“আজ চারিদিকে বৃষ্টি পড়ছে। পদ্মার জল ধূসর হয়ে এসেছে, আকাশে মেঘের ছায়া, বাতাসে স্নিগ্ধতা। প্রকৃতি যেন তার সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে ফেলেছে।”


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিন্নপত্র–এর এই অনুভূতিতে ধরা পড়ে বাংলার বর্ষার চিরন্তন সৌন্দর্য। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বর্ষা এই ভূখণ্ডের মানুষের জীবনে আনন্দ, প্রেম, সৃজনশীলতা এবং প্রাণের সঞ্চার করেছে। আষাঢ়ের প্রথম মেঘ, শ্রাবণের অবিরাম বৃষ্টি, কদমফুলের সুবাস কিংবা নদীর উচ্ছ্বসিত স্রোত—এসব মিলিয়ে বর্ষা বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ।


কিন্তু প্রকৃতির এই মোহনীয় ঋতু আজ নগরবাসীর কাছে প্রায়ই স্বস্তির চেয়ে শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একসময় যে বৃষ্টি ছিল কবিতার উপমা, আজ তা অনেকের কাছে জলাবদ্ধতা, যানজট, রোগবালাই ও ভোগান্তির প্রতীক। আকাশে কালো মেঘ জমলেই ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা সিলেটের মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েন—আজ কতটা পানি জমবে, কত ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হবে কিংবা বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে তলিয়ে যাবে কি না।


প্রকৃতপক্ষে বর্ষা নয়, আমাদের নগর ব্যবস্থাপনাই আজ সমস্যার মূল উৎস। কারণ বর্ষা তো নতুন নয়; নতুন হলো নগরের সংকট।


বাংলাদেশ মূলত নদীমাতৃক এবং বর্ষানির্ভর একটি দেশ। কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বর্ষার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। প্রতিবছর দেশের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বর্ষাকালে হয়। এই বৃষ্টির পানি কৃষিজমিতে উর্বরতা আনে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনরুদ্ধার করে এবং জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করে। অর্থাৎ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বর্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।


কিন্তু নগরায়ণের বর্তমান ধারা সেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্রমাগত দুর্বল করে দিচ্ছে। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে নগর জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাধীনতার পর যেখানে জনসংখ্যার অল্প অংশ শহরে বাস করত, বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ নগর এলাকায় বসবাস করে। জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই দশকে এ হার আরও বাড়বে। কিন্তু সেই তুলনায় নগর অবকাঠামো, পরিবেশ পরিকল্পনা এবং জনসেবার উন্নয়ন ঘটেনি।


ফলে বর্ষা এলেই শহরগুলোর সীমাবদ্ধতা নগ্নভাবে প্রকাশ পায়।


রাজধানী ঢাকার কথাই ধরা যাক। কয়েক ঘণ্টার মাঝারি বৃষ্টিতেই বহু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। অফিসগামী মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়ক অবকাঠামো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। নগর অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবও কম নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার যানজট ও কর্মঘণ্টা অপচয়ের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, যার একটি বড় অংশ বর্ষাকালের দুর্ভোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।


এই সংকটের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। শহরের খাল, জলাশয়, নিম্নাঞ্চল এবং প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষম এলাকাগুলো ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে গেছে। একসময় যে খালগুলো অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নদীতে প্রবাহিত করত, আজ তার অনেকগুলোই দখল, দূষণ কিংবা অব্যবস্থাপনার শিকার। জলাধার হারিয়ে যাওয়ার ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশনের সুযোগ পায় না।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও