ঈদুল আজহা: প্রকৃত ত্যাগ আসলে কোথায়?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২৮ মে ২০২৬, ১৩:২০

কোরবানির ঈদের সকালে শহরের অলিগলি ভরে ওঠে পশুর ডাক, মানুষের ব্যস্ততা আর উৎসবের আমেজে। শিশুরা নতুন পোশাকে উচ্ছ্বসিত, ঘরে ঘরে রান্নার প্রস্তুতি, আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা। কিন্তু এই আনন্দের ভেতরেও কোথাও যেন এক গভীর প্রশ্ন নীরবে দাঁড়িয়ে থাকে—আমরা কি সত্যিই ত্যাগের মর্ম বুঝতে পেরেছি? নাকি কোরবানি আজ অনেকাংশে কেবল লোক দেখানো আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে?


ঈদুল আজহাকে বলা হয় ত্যাগের ঈদ। এর মূল শিক্ষা নিহিত আছে মহান আল্লাহর প্রতি হজরত ইবরাহিম (আ.)–এর নিঃশর্ত আনুগত্য এবং তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)–এর আত্মসমর্পণের ঘটনায়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সেই ইতিহাস কেবল পশু কোরবানির বিধান নয়; এটি মানুষের ভেতরের অহংকার, লোভ, স্বার্থপরতা ও হিংসাকে কোরবানি করারও আহ্বান। আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবেই বলেছেন, “আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” অর্থাৎ কোরবানির প্রকৃত মূল্য নিহিত আছে আত্মত্যাগ, মানবিকতা ও আল্লাহভীতিতে।


কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা প্রায়ই বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতাকে বড় করে দেখি, অথচ আত্মিক শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাই। ঈদের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই পশুর আকার, দাম বা বিরল জাত নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন। কোরবানির মূল দর্শনের জায়গায় কখনো কখনো প্রবেশ করে প্রদর্শনপ্রবণতা। অথচ ইসলাম কখনো অপচয়, অহংকার বা লোকদেখানো আচরণকে উৎসাহ দেয়নি।


আজকের সমাজে চারদিকে অস্থিরতা বাড়ছে। সামান্য জমি, ব্যবসা, রাজনৈতিক মতভেদ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য মানুষ মানুষকে হত্যা করছে। সামাজিক সহমর্মিতা কমছে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে, প্রতিবেশী সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে। বৃদ্ধ মা-বাবাকে অনেকে বোঝা মনে করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সন্তানরা ব্যস্ত নিজস্ব জীবনে; আত্মীয়তা ক্রমশ আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষকে সংযুক্ত করলেও হৃদয়ের দূরত্ব যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে।


এই বাস্তবতায় প্রশ্ন জাগে—ত্যাগের ঈদ পালন করেও যদি আমরা স্বার্থপরতা ত্যাগ করতে না পারি, তবে ঈদের প্রকৃত সার্থকতা কোথায়?


ইসলামে কোরবানি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক বণ্টনেরও শিক্ষা। কোরবানির গোশত আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশনা ইসলামের সাম্য ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। অর্থাৎ ঈদের আনন্দ একা ভোগ করার নয়; এটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার উৎসব।


আমাদের সমাজে আজ সবচেয়ে বড় যে সংকটগুলোর একটি, তা হলো মানবিকতার সংকট। মানুষ ধীরে ধীরে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। প্রতিযোগিতামূলক জীবনে অর্থ ও ভোগবাদকে সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে মানুষ সম্পর্কের চেয়ে সম্পদকে বেশি মূল্য দিচ্ছে। অথচ ইসলাম মানুষকে শিখিয়েছে—একজন ক্ষুধার্ত প্রতিবেশী রেখে নিজে তৃপ্ত থাকা প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।


ঈদুল আজহার শিক্ষা এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃত ত্যাগ মানে কেবল পশু জবাই নয়; নিজের ভেতরের হিংসা, অহংকার, লোভ, বিদ্বেষ ও নিষ্ঠুরতাকে জবাই করা। যে ব্যক্তি কোরবানি করেও প্রতারণা করে, ঘুষ নেয়, অন্যের অধিকার হরণ করে বা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব এড়িয়ে যায়, সে কোরবানির আত্মিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি।


সমাজবিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, আধুনিক নগরজীবনে সামাজিক সম্পর্কের উষ্ণতা কমছে। বাংলাদেশেও যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার বাড়ছে। এতে ব্যক্তিস্বাধীনতা বাড়লেও পারিবারিক নিরাপত্তা ও আবেগিক সম্পর্ক দুর্বল হচ্ছে। বয়স্ক মানুষের নিঃসঙ্গতা বাড়ছে। অনেক মা-বাবা শেষ বয়সে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান আপনজনের অবহেলায়। অথচ ইসলামে মা-বাবার মর্যাদা এত উচ্চ যে কোরআনে আল্লাহর ইবাদতের পরপরই তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ এসেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও