১০০ দিন পর বিএনপি সরকারের ভবিষ্যৎ পরীক্ষা

প্রথম আলো আসিফ বিন আলী প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ১৮:৪৫

একটি সরকারের ১০০ দিন নিয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস যেমন ঠিক নয়, তেমনি পুরোপুরি অবহেলা করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ১০০ দিন ইতিহাসের রায় নয়, কিন্তু এটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার একটি প্রাথমিক চিত্র। এই সময়ে সরকার কোন কাজকে জরুরি মনে করছে, রাষ্ট্রযন্ত্র কতটা নড়ছে, জন–আস্থাকে প্রশাসনিক দক্ষতায় রূপ দিতে পারছে কি না, এসবের কিছু সংকেত পাওয়া যায়।


বিএনপি সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে, যখন বাংলাদেশের সমাজে একধরনের ক্লান্তি জমে ছিল। মানুষ শুধু সরকার পরিবর্তন চায়নি, তারা স্বাভাবিকতা চেয়েছিল। রাস্তায় নিরাপত্তা, প্রশাসনে সিদ্ধান্ত, বাজারে স্থিরতা, আদালতে আস্থা, হাসপাতালে সেবা এবং রাজনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা।


অন্তর্বর্তী শাসনের অনিশ্চয়তার পর একটি নির্বাচিত সরকারের আগমন তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। এই স্বস্তি সরকারের প্রথম রাজনৈতিক পুঁজি। কিন্তু রাজনৈতিক পুঁজি জমা রাখার জিনিস নয়। ব্যবহার না করলে তা দ্রুত ক্ষয় হয়।


এই ১০০ দিনে সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবত কোনো একক প্রকল্প নয়, বরং নির্বাচিত কর্তৃত্বের একটি ন্যূনতম পুনঃপ্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্র আবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, মন্ত্রণালয়গুলো নড়ছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব অন্তত দৃশ্যমান। কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্ন। রাষ্ট্র দৃশ্যমান হলেই কি রাষ্ট্র কার্যকর হয়? ক্ষমতার কেন্দ্রে নেতৃত্ব থাকলেই কি মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরে আসে? বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলছে, আসে না; বরং নির্বাচিত সরকারগুলোর সবচেয়ে বড় বিপদ হলো তারা অনেক সময় রাজনৈতিক বৈধতাকে প্রশাসনিক সক্ষমতার বিকল্প মনে করে। বিএনপি সরকারেরও এই ভুল করার সুযোগ নেই।


সরকার শুরুতে যে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো নিয়েছে, সেগুলো রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্কুল ফিডিং, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি—এগুলো আলাদা আলাদা প্রকল্প হলেও এগুলোর ভেতরে একটি সাধারণ রাজনৈতিক বার্তা আছে। সরকার বলতে চাইছে, তারা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রবেশ করতে চায়। দরিদ্র পরিবার, কৃষক, স্কুলপড়ুয়া শিশু, জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা দেশ—এই অগ্রাধিকারগুলো কাগজে অন্তত ভুল নয়; বরং দীর্ঘদিনের অভিজাতকেন্দ্রিক উন্নয়ন রাজনীতির বিপরীতে এগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের ভাষা হিসেবে দেখা যেতে পারে।


কিন্তু বাংলাদেশের সমস্যা কখনোই শুধু ভালো প্রকল্পের অভাব ছিল না। সমস্যা ছিল প্রকল্পের নকশা, বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতে। ফ্যামিলি কার্ড যদি সত্যিই দরিদ্র মানুষের হাতে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে, তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। কিন্তু স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব, ভুয়া তালিকা, দলীয় আনুগত্য, মধ্যস্বত্বভোগী এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা যদি ঢুকে পড়ে, তবে এই প্রকল্পও পুরোনো পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির আরেক নাম হয়ে যাবে।


কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা। কৃষক যদি সরাসরি ভর্তুকি, ঋণ, বীজ, সার, বাজারতথ্য ও বিমার সুবিধা পান, তাহলে কৃষি অর্থনীতিতে তা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু কৃষক কার্ড যদি কৃষকের চেয়ে স্থানীয় ক্ষমতাবানদের হাতে বেশি কার্যকর হয়, তাহলে এর রাজনৈতিক প্রচার থাকবে, ফল কম থাকবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও