গন্তব্য ইউরোপ : স্বপ্ন আর ঝুঁকির হাতছানি

ঢাকা পোষ্ট আসিফ মুনীর প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ১১:৫০

প্রায়শই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাত্রায় মৃত্যু আর ইউরোপ অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশের তালিকায় বাংলাদেশিদের নাম সামনে চলে আসে, যার জন্য নীতিনির্ধারকরা নড়েচড়ে বসেন আর সাধারণ জনগণ অনেক সময় চায়ের কাপে ঝড় তোলেন। কিন্তু অবস্থার যে কোনো গুণগত পরিবর্তন হয় না, তা ঘটনার পুনরাবৃত্তি থেকে আমরা নিশ্চিত হই।


সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সমুদ্রপথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপগামী ১,৩৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এদের সবাই বাংলাদেশি না হলেও বড় অংশই বাংলাদেশি।


প্রতিবেদনে আরও বলছে, অনিয়মিত পথে ২০২৫ সালেই ইউরোপে গেছেন ২৪,৩১৮ জন। সংখ্যাগুলো নড়েচড়ে বসার মতোই। এদের অনেকেই অনিয়মিত অভিবাসনের জন্য ডিটেনশনে থাকবেন এবং এক পর্যায়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কেউ কেউ পালিয়ে অনিয়মিত অভিবাসী জীবনযাপন করবেন অনেক বছর। এদের মধ্যে খুব কম অংশই বিভিন্ন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপের কোনো দেশে স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পাবেন।


প্রতি বছর এরকম অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে ইউরোপের সেই দেশগুলোর বেগ পেতে হচ্ছে। কারণ অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রতি স্থানীয় জনগণের মনোভাব ক্রমশ বৈরি হয়ে উঠছে। অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে না পারলে কূটনৈতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়।


অবশ্য অনিয়মিত অভিবাসন, মানব পাচার, মানব স্মাগলিং নিয়ন্ত্রণ জটিল বিষয়। এজন্য সুগঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় এবং আন্তঃসরকার সমন্বয় প্রয়োজন। এই সমন্বয় অসম্ভব নয়, তবে ধাপে ধাপে কার্যকরী পদক্ষেপ ও তদারকি দরকার।


সরকারের জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হলো, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ৫ বছরে ১ কোটি মানুষের প্রবাসে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। অর্থাৎ প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ বিদেশে কাজ করতে যাবে।


বেশ কয়েক বছরে গড়ে ১০-১২ লাখ অভিবাসী কর্মী বিদেশে গিয়েছে। ২০২৬ সালে ইরান ও লেবাননে মার্কিন-ইসরায়েল সামরিক আগ্রাসন ও ইরানের প্রতিক্রিয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার টালমাটাল, কাজেই হয়তো ঐ অঞ্চলে অভিবাসন কম হবে। এমনিতেই অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ব্যয়, প্রবাসে ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত অভিবাসন সেবার অভাব এবং দুর্বল প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার কারণে অনেক অভিবাসী কর্মী অভিবাসন অভিজ্ঞতার সব সুফল ভোগ করতে পারেন না।


অভিবাসন খাতে সরকারি ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন দ্রুত উন্নত না হলে যত বেশি কর্মী বিদেশে যাবেন, তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসীর সংখ্যাও বাড়বে। ইউরোপসহ এশিয়া ও আফ্রিকার সম্ভাবনাময় দেশগুলোর অভিবাসন তথ্য, বাজার গবেষণা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ না হওয়ার কারণে অভিবাসন ব্যবসায়ী, দূতাবাস, সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়, নীতি-নির্ধারক এবং অভিবাসী প্রত্যাশীদের কাছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কার্যকরী পদক্ষেপ নেই।


শ্রম বাজার গবেষণা প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রতিশ্রুতি অবশ্য নির্বাচনী ইশতেহারে আছে, সেটি দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন। শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, সুশাসন এবং বহুপাক্ষিক সম্মিলিত উদ্যোগ ব্যতীত ভূমধ্যসাগরগামী মৃত্যুযাত্রা কমিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। সুশাসন ও সুব্যবস্থাপনার যতই সময় লাগুক, অভিবাসী প্রত্যাশীরা ‘দেখি কী হয়’, ভেবে চুপচাপ বসে থাকবেন না। 


অতীতে অন্যত্র আলোচনা করেছি যে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশিদের অভিবাসনের কাহিবি কয়েক শত বছরের। সেই অভিবাসন প্রবাসে স্থায়ী বসতি স্থাপনের জন্যই হোক বা দেশে ফিরে ব্যক্তি ও পরিবারের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য সাময়িক অভিবাসন হোক। এর সিংহভাগ ধারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়, আর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধারাটি ইউরোপে।


বিভিন্ন সূত্রমতে ৫০ লাখের ওপর বাংলাদেশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় আর প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ওপর ইউরোপে। এদের মধ্যে সাড়ে ৬ লাখ যুক্তরাজ্যে, দেড় লাখ ইতালিতে, ৭৫ হাজার স্পেনে এবং ৫০ হাজার বাংলাদেশি। এদের অনেকেই স্থায়ীভাবে ইউরোপের নাগরিক।


তবে এগুলো আনুমানিক হিসাব, কারণ ইউরোপে অনিয়মিত বাংলাদেশিদের কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই, থাকার কথাও না। এক হিসাবে দেখা গেছে ২০২০-২০২৪ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ অনিয়মিত বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছে, যাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশের আশ্রয় আবেদন নাকচ হয়ে গেছে। এদের ছোট একটি অংশ দেশে ফিরতে পেরেছেন, বাকিরা ইউরোপের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে অন্তরীণ আছেন। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও