তদন্ত এগোয় না, জামিনের অপেক্ষায় সাংবাদিকেরা
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দী রয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক। বারবার আবেদন করেও তাঁরা জামিন পাচ্ছেন না। এ ছাড়া মামলার কারণে কেউ কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন জামিন পাওয়ার আশা দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকেরা।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট আটক করা হয়েছিল একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক-উপস্থাপক ফারজানা রুপাকে। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। সেদিন তাঁরা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) তাঁদের আটক করে।
পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ফজলুল করিম নামের একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রাজধানীর আদাবরে পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তাঁরা কারাগারে আছেন, এখনো জামিন পাননি।
দুর্নীতিবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত হত্যা বা সহিংসতার মামলায় আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ৪ আগস্ট তারা এই তথ্য প্রকাশ করে।
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যদি আইনের শাসনের কথা বলি, তাহলে বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা এবং দিনের পর দিন জামিন না দেওয়া সমীচীন নয়। বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। আমরা নোয়াবের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছি। শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে বলে আশা রাখছি।’