কীসের ঘাটতি হামের প্রাদুর্ভাব উসকে দিলো?

ঢাকা পোষ্ট ড. শাফিউন নাহিন শিমুল প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৭

একসময় প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসা হামের আবারও উদ্বেগজনক পুনরুত্থান হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে, সঙ্গে শিশু মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই উত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি কোভিড-পরবর্তী সময়ে দেখা দেওয়া বৈশ্বিক প্রবণতারই অংশ। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংক্রমণের গতি ও ব্যাপ্তি গভীরতর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।


হাম মানবদেহে সংক্রমিত সবচেয়ে সংক্রামক ভাইরাসগুলোর একটি। এটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিশেষ করে যেখানে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতায় দুর্বল থাকে। টিকার কভারেজের সামান্য পতনও প্রাদুর্ভাবের বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।


মহামারিবিদ্যার তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ ঠেকাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ দুই ডোজ টিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দুঃখজনক হলেও সত্য সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এই টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হয়নি।


বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারির পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০–২০২২ সময়ে লকডাউন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নাজুক অবস্থা ও সেবার বিঘ্ন ঘটার কারণে কোটি কোটি শিশু নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর ফলেই ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে হাম সংক্রমণ বেড়েছে যা নিম্ন ও উচ্চ উভয় আয়ের দেশেই দেখা গেছে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী হাম টিকার প্রথম ডোজের বৈশ্বিক কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৬ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে প্রায় ৮১ শতাংশে নেমে আসে। ফলে আনুমানিক ২.৫ কোটি শিশু সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে টিকা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। যা ভাইরাস দ্রুত সংক্রমিত হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করে। সেই অর্থে বাংলাদেশের বর্তমান প্রাদুর্ভাব একটি বৈশ্বিক অবস্থার কিছুটা প্রতিফলন বলা যেতে পারে।


তবে কেবল বৈশ্বিক ব্যাখ্যাই যথেষ্ট নয় বা বাংলাদেশের বর্তমান প্রাদুর্ভাবের মাত্রা শুধু বৈশ্বিক পরিস্থিতি দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যাবে না। এদেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, অদক্ষতা এবং আচরণগত কিছু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রতিফলন এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা।


একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ছিল টিকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যেমন সিরিঞ্জ এবং কোল্ড-চেইন সরঞ্জাম ইত্যাদি সংগ্রহে বিলম্ব করা। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বল্পমেয়াদি বিঘ্নও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে এমন একটি ব্যবস্থায় যা ধারাবাহিক মাঠপর্যায়ের সেবার ওপর নির্ভরশীল। এখানে ক্রয়ব্যবস্থার অদক্ষতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, Gavi-এর অর্থায়ন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা। দক্ষিণ এশিয়ার অনেক প্রতিবেশী দেশ এখন সরাসরি নিজেদের ব্যবস্থার মাধ্যমে Gavi তহবিল পরিচালনা করতে পারলেও, বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে UNICEF ও WHO-এর মাধ্যমে এই অর্থ ব্যবস্থাপনা করে থাকে। এতে অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হয়, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে ধীর করে দেয়। ফলে সময়মতো টিকা সংগ্রহ ও বিতরণ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।


শুধু বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, অর্থের সময়মতো ছাড়, দক্ষ ব্যবহার এবং সঠিক ক্রয় প্রক্রিয়া সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা বিশেষ ভূমিকা রাখে। কোভিড পরবর্তী সময়ে এইসব জায়গায়ও ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে।


এই দুর্দশার বড় কারণ ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি (HPNSP)-এর অধীনে বিদ্যমান অপারেশনাল পরিকল্পনা (OP) প্রত্যাহার ও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও