বাজেট হোক কাঠামোগত পরিবর্তনের রূপরেখা

জাগো নিউজ ২৪ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বাদল প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬, ২১:২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব না হয়ে, দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের (Structural Transformation) রূপরেখা হওয়া উচিত- এমন মতামত ব্যক্ত করছেন দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদরা। এই মতের সঙ্গে আমারও সহমত রয়েছে। আমিও মনে করি, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ- বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভের ওপর চাপ এবং রাজস্ব আহরণের ঘাটতি মোকাবিলার জন্য একটি কৌশলগত ও সংস্কারমুখী বাজেটের প্রয়োজন। কেননা ২০২৫-২৬ সালের বাজেটকে একটি কল্যাণভিত্তিক ও টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের অন্যতম রূপরেখা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু লক্ষ্য ঘোষণা নয় বরং বাস্তবায়নের শক্তিশালী কাঠামো থাকলেই এই বাজেট অর্থনীতির সত্যিকারের রূপান্তর ঘটাতে সক্ষম হবে। আমি এই লেখায় কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য বাজেটে যেসব বিষয় ফোকাস করা জরুরি তার চিত্র তুলে ধরছি :


১. শিল্পায়ন ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ


নবায়নযোগ্য জ্বালানি : সৌরবিদ্যুৎ, রুফটপ সোলার ও গ্রিড আধুনিকায়নে স্পষ্ট বরাদ্দ ও নীতিসহায়তা প্রয়োজন, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।


উচ্চপ্রযুক্তির শিল্প : টেক্সটাইলের বাইরে ফার্মাসিউটিক্যালস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স এবং আইটি-সক্ষম পরিষেবাগুলোতে কর ও শুল্ক সুবিধা বাড়িয়ে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে।


রপ্তানি প্রণোদনা : কেবল তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে, নতুন ও বৈচিত্র্যময় পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা দেওয়া।


২. রাজস্ব সংস্কার ও করজাল সম্প্রসারণ


করজাল বৃদ্ধি : কর ফাঁকি রোধে ডিজিটাল নজরদারি বৃদ্ধি এবং কালো টাকা ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।


ন্যায়ভিত্তিক কর কাঠামো : সীমিত সংখ্যক করদাতার ওপর চাপ না বাড়িয়ে, বরং করদাতার সংখ্যা বাড়াতে এনবিআর-এর দক্ষতা বৃদ্ধি করা।


৩. কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ


কর্মসংস্থান-ভিত্তিক বিনিয়োগ: যে বিনিয়োগ বা প্রকল্প বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া।


দক্ষতা বৃদ্ধি : ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা এবং স্টার্টআপদের জন্য ভেনচার ক্যাপিটাল সুবিধা রাখা।


৪. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ


প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা : স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশ (৬৭%) যেহেতু ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে দেয়, তাই জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করে এই পকেট খরচ কমানো প্রয়োজন।


৫. টেকসই ঋণের ব্যবস্থাপনা


মেগা প্রকল্পে সতর্কতা : বৈদেশিক ঋণের চাপ বাড়ায়, মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত করা এবং উৎপাদনশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।উল্লিখিত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে এসবের উপযোগিতা উপলব্ধির বাস্তবতা অনুধান কঠিন নয়। আসলে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট প্রতিবছরই বিপুল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সরকার কত টাকা আয় করবে, কোথায় কত ব্যয় হবে, কর বাড়বে নাকি কমবেÑ এসব নিয়েই সাধারণত আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ একটি জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাবপত্র নয়; এটি হওয়া উচিত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং ভবিষ্যৎ রূপান্তরের রূপরেখা। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, কর্মসংস্থান সংকট ও বৈষম্য বৃদ্ধির এই সময়ে বাংলাদেশের বাজেটকে আরও বড় দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে হবে। প্রয়োজন এমন একটি বাজেট, যা অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও