গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নিয়ে লড়াই
প্রতিটি গণআন্দোলনের দুটি ইতিহাস থাকে। একটি লেখা হয় ক্ষমতার ভাষায়, অন্যটি জনগণের অভিজ্ঞতায়। প্রথমটি তুলনামূলকভাবে দ্রুত প্রতিষ্ঠা পায়—রাষ্ট্র, সরকার কিংবা নতুন ক্ষমতাকেন্দ্র নিজেদের বৈধতা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনের একটি নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নির্মাণ করে। দ্বিতীয় ইতিহাসটি গড়ে ওঠে ধীরে—মাঠে থাকা মানুষের স্মৃতি, সংগঠনের দলিল, সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে। তাই গণআন্দোলনের পর লড়াই কেবল রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ে হয় না, লড়াই হয় রাজনৈতিক স্মৃতির মালিকানা নিয়েও। রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে দ্বিতীয় লড়াইয়ে থাকে নির্লজ্জতার ছাপ।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রবণতা নতুন নয়। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে আন্দোলনের বহুমাত্রিক চরিত্রকে সংকুচিত করে একক রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে। অথচ গণআন্দোলনের শক্তি কোনো একক দল, ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা এবং দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ মিলেই একটি গণঅভ্যুত্থানের জন্ম দেয়। একসময় আন্দোলনের গতি স্তিমিত হয়ে আসে, আবার নতুন নতুন টার্নিং পয়েন্ট সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তা নতুন শক্তি অর্জন করে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- গণঅভ্যুত্থান