বাচ্চাদের ভর্তিতে পরীক্ষা, উপাচার্য ‘ভর্তিতে’ নেই!

প্রথম আলো মনোজ দে প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ২২:৪৭

বিএনপির গত মেয়াদে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধে তাঁর দৌড়ঝাঁপ ও প্রচেষ্টার গল্প একসময় মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে। বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকে যাঁরা পাবলিক পরীক্ষাগুলো দেখেছেন, তাঁরা জানেন পরীক্ষায় নকল কতটা অভিনব শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। হাতের তালু, স্কেল, জ্যামিতি বক্সে রাত জেগে উত্তর লেখা হতো। অনেকে কলমের ওপর প্রশ্নের উত্তর লিখতেও পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন।


চিন্তা করা যায়, হাত কতটা সূক্ষ্ম হলে আর চোখ কতটা নিখুঁত হলে, এমন করে লেখা যায়, আর সেটা দেখে দেখে পরীক্ষার হলে লেখা যায়। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর আশপাশে একেবারে মেলা বসে যেত। পরীক্ষার ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন বাইরে চলে আসত। পরীক্ষার্থীর চেয়ে বাইরের সহায়তাকারীরা বসে যেতেন বইয়ের পাতা খুঁজে প্রশ্নের উত্তর বের করতে। পাতা কেটে কিংবা কাগজে লেখা হতো সেই প্রশ্নের উত্তর। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা হতো। ফলে যাঁরা উত্তর খুঁজে বের করতেন, তাঁদেরকে কেউ তালের পাখা দিয়ে বাতাস করতেন, আবার কেউ ডাব কেটে মুখের সামনে ধরতেন! সে–ও একটা দিন গেছে দেশে!


দুই.


পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করতে পারলেও গত বিএনপি সরকারের আমলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা খাতের চিত্র স্বস্তিদায়ক ছিল না। ক্যাম্পাসগুলোতে সেশনজট ব্যাপকভাবে (পাঁচ বছরের অনার্স–মাস্টার্স শেষ হতে অনেকের সাত বছর লেগে গিয়েছিল) ফিরে এসেছিল। ছাত্রদলের দুই দলের সংঘর্ষের সময় গুলিতে বুয়েট শিক্ষার্থী সাবেকুন নাহার সনি নিহত হওয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের জেরে মাঝরাতে পুরুষ পুলিশ প্রবেশের মতো ঘটনাগুলো ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল।


এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উচ্চশিক্ষার কৌশলপত্র তৈরি করেছিল। সেখানে পরিষ্কার করে বলা হয়েছিল, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজেদের আয়ে চলতে হবে। এর আলোকেই আমরা দেখেছি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মডেলের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গত দেড় দশকে বাংলাদেশে সরকারি ব্যয়ে যে কয়টা বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, সব কটিই এই মডেলের বিশ্ববিদ্যালয়। পাবলিক ও বেসরকারি দুই মডেলের মাঝখানের এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যয়ের একটা বোঝা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বহন করতে হয়। একই সঙ্গে পাকিস্তান পর্বে দীর্ঘ আন্দোলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ত্রিয়াত্তরের অধ্যাদেশ থেকে যে স্বায়ত্তশাসন ও একাডেমির স্বাধীনতা পেয়েছিল, সেটা কেড়ে নিয়ে পুরোপুরি সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।


তিন.


দেড় যুগ পর ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এহছানুল হক মিলন। শপথ গ্রহণের দিন তাঁর হাইজাম্প দিয়ে দড়ির বাধা পেরোনোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের উদ্যোগ ও তৎপরতা প্রশংসিতও হয়েছে।


তবে কিছু সিদ্ধান্ত বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রথম বিতর্কটা শুরু হয়ে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার আলোচনা ওঠার কারণে। প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, ১০ মার্চ সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে আলোচনার সময় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকার বাধ্যবাধকতা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আলোচনা শুরু হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই ভাবনা থেকে সরে আসে।


চার.


ঈদের ছুটির আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জোড়া সিদ্ধান্তকে শিক্ষাক্ষেত্রে জোড়া আঘাত হিসেবে দেখা যেতে পারে। দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। নতুন উপাচার্যরা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক সংগঠনের সাবেক বা বর্তমান নেতা। রাজনৈতিক আনুগত্যের মাপকাঠিতে উপাচার্য নিয়োগ করা নিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এত বড় অভ্যুত্থান, এত মানুষের প্রাণহানির পরও বিশ্ববিদ্যালয়কে দলীয় প্রতিষ্ঠান বানানোর চিন্তা কেন, সেটা মোটেই বোধগম্য নয়। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের পাল্টায় মন্ত্রী প্রশ্ন করেছেন, কারও দল করা কি অযোগ্যতা? প্রশ্নটা এখানে আসলে দল করা কিংবা না করা নয়, প্রশ্নটা হচ্ছে, উপাচার্য নিয়োগের মানদণ্ডটা কী ছিল, তা নিয়ে পরিষ্কার কোনো ভাষ্য জানা যায়নি।


ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম—এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী। এই আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের নির্দিষ্ট বিধি আছে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের মূল বিধান হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে নির্বাচিত তিন সদস্যের একটি প্যানেল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ বিধানের উদ্দেশ্য ছিল উপাচার্য নির্বাচনে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও