ইরানে আগ্রাসন গ্রেটার ইসরাইল প্রতিষ্ঠার অংশ

যুগান্তর মোবায়েদুর রহমান প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৬

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের ২৮ দিন অতিক্রান্ত হলো। ইরান আমেরিকার তুলনায় অতি দুর্বল একটি দেশ। ইরান বা তার মতো দুর্বল দেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকাকে আক্রমণের কথা কল্পনাতেও ভাবতে পারে না।


সেই ইরানকে আমেরিকা এবং ইসরাইল সমানে প্রায় এক মাস ধরে হামলা করেই যাচ্ছে। এ ২৮ দিনে আমেরিকা ও ইসরাইল ইরানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। তাদের সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি থেকে শুরু করে সব শেষে নিরাপত্তা প্রধান লারিজানিসহ অনেক শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক রাষ্ট্রনায়ককে হত্যা করেছে। আমেরিকার এ তাণ্ডব দেখে বিশ্বের বলতে গেলে প্রায় সব দেশ প্রায় হতভম্ব হয়ে নিজেরাই নিজেদের প্রশ্ন করছেন, কেন ইরানকে আমেরিকা ফিনিশ করে দিতে চায়? আমি এখানে ইসরাইলের প্রসঙ্গ আনলাম না। কারণ, ছাগল নাচে খুঁটির জোরে। যদি আমেরিকা এ যুদ্ধে না নামত, তাহলে ইসরাইল এতদিন তুলাধুনা হয়ে যেত। সেজন্যই প্রশ্ন : কেন আমেরিকা বিনা কারণে, বিনা প্ররোচনায়, বিনা উসকানিতে ইরানকে শেষ করতে চাচ্ছে? বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ বিষয়টি নিয়ে আমি ব্যাপক গবেষণা ও পড়াশোনা করেছি। করতে গিয়ে দেখি, আমার এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন স্বয়ং আমেরিকার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মিস্টার পিট হেগসেথ নিজেই একটি বই লিখেছেন। নাম ‘আমেরিকান ক্রুসেড’। ওই বইয়ে তিনি লিখেছেন, আমেরিকা বর্তমানে একটি ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মার্কিন টেলিভিশন ‘সিবিএস’। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যে সংকল্প রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ করা ইরানের উচিত হবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছে উচ্চপর্যায়ের শক্তি। ‘সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা’ মার্কিন সেনাদের রক্ষা করছেন। এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”


তিনি মনে করেন, ইরান বিশ্বে মহাপ্রলয় ঘটাতে চায়। এজন্য তারা পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। এ কারণে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মার্কিন সেনাদের একটি গভীর সংযোগ থাকা প্রয়োজন। সম্প্রতি একটি ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকা একটি খ্রিষ্টান দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের ডিএনএতে এটি এখনো খ্রিষ্টান দেশ হিসাবে রয়ে গেছে।’


হেগসেথের বুকে একটি ট্যাটু বা উল্কি রয়েছে। সেটি জেরুজালেমের একটি ক্রস। ধর্মীয় এ প্রতীকটির ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। ক্রুসেডের সময় মুসলমানদের কাছ থেকে পবিত্র ভূমি পুনরায় দখলের চেষ্টা করেছিল ইউরোপের খ্রিষ্টানরা। আমেরিকান ক্রুসেড বইতে পিট হেগসেথ লিখেছেন, ‘আমরা লড়াই করতে চাই না। কিন্তু ১ হাজার বছর আগে আমাদের খ্রিষ্টান ভাইদের মতো, আমাদেরও লড়াই করা বাধ্যতামূলক।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শরীরে আরেকটি ট্যাটু রয়েছে। সেটিতে লেখা রয়েছে, ‘দেউস ভুল্ট’। অর্থ, ঈশ্বর এটি চান। ‘আমেরিকান ক্রুসেড’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ‘ক্রুসেডের মুহূর্তে’ রয়েছে। কথাটি এগারো শতকের পবিত্র ভূমিতে খ্রিষ্টানদের অভিযানের সময়ের মতো শোনায়। বইয়ে হেগসেথ লেখেন, ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিনরা এ ভ্রান্ত ধারণায় থাকবে যে, ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম, বিশেষ করে যখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন হচ্ছে, আমাদের কাজ ততই কঠিন হয়ে যাবে। ইসলাম তার ভাষায় শত্রুদের সঙ্গে, অর্থাৎ সব ‘অবিশ্বাসীর’ সঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুদ্ধ করে চলেছে। এটি কখনো বন্ধ হবে না।”


আমেরিকার সেনা সদস্যদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে অলাভজনক সংগঠন মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ)। এ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মিকি ওয়েইনস্টেইন। ওয়েইনস্টেইন বলেন, ‘এগারো থেকে তেরো শতক পর্যন্ত আটটি ক্রুসেড হয়েছিল। আমরা ঠিক এর নবম সংস্করণ দেখছি। আরব উপদ্বীপে বোকো হারাম, ইসলামিক স্টেট, তালেবান, আলকায়দা, তারা শিয়া বা সুন্নি, যাই হোক না কেন, সবাই এটাকে এমনভাবেই দেখবে যে, আমরা বিশাল মুসলিম জাতির ওপর হামলা করছি।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও