সহযোগিতার নতুন যুগে বাংলাদেশ ও চীন
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি নিজ দেশের সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর এটাই দুই দেশের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। প্রধানমন্ত্রীর সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও তিনি সফরের বিষয়ে আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে জাতীয় অগ্রাধিকারগুলো সমাধান করেই তিনি চীন সফর করবেন। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সাম্প্রতিক এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় নতুন এক অধ্যায়ের আভাস দিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তি পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
জনগণের জীবনমান উন্নয়ন চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা পুনরায় শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করলেই চীন পুরোদমে তা বাস্তবায়ন শুরুর বিষয়ে প্রস্তুত। প্রকল্পটির প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার কথা চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দিকে এবং ২০২৯ সালে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা। এতে মোট বিনিয়োগ হবে ৭৪ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে চীন জোগান দেবে ৫৫ কোটি ডলার। উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্প নদীভাঙন রোধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। ফলে নদীতীরের লাখো বাসিন্দা সরাসরি উপকৃত হবে। কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি এই প্রকল্প স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চীনের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এ ছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কতটা শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ভূরাজনীতি
- ভূরাজনৈতিক অবস্থান