বাংলা নববর্ষ আমাদের বৃক্ষছায়া

ঢাকা পোষ্ট ইমতিয়ার শামীম প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:২৭

সংশয় নেই, বাংলা নববর্ষ এ জনপদের লোকজ সংস্কৃতির ফসল। নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে তার একটি নাগরিক আদলও দাঁড়িয়ে গেছে বটে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে সেই স্রোতধারায় লোকজ সংস্কৃতি সমন্বিত নয়। তার মানে এ-ও নয়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সেই নাগরিক আদল বাঙালি মধ্যবিত্তের সাময়িক আনন্দউল্লাস।


বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ এখন আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত হয়েছে, মধ্যবিত্তের শ্রেণি মননে যে দোদুল্যমানতা গত শতাব্দীর আশির দশকে এমনকি নব্বইয়ের দশকেও ছিল—তা এখন অনেকাংশেই উধাও হয়ে গেছে। মধ্যবিত্ত এখন বিপ্লবের স্বপ্ন খুব কমই দেখে; নতুন এই মধ্যবিত্ত মূলত বিত্তমুখী, উচ্চবিত্তমুখী। কিন্তু তার পরও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়ে গেছে, সেই নিবিড়তা অস্বীকার করার মতো শক্তি এখনও সে অর্জন করতে পারেনি আর পারবেও না।


কারণ সমাজকে, সামাজিক শ্রেণিসমূহকে সমন্বিত রাখার বিষয়টি সংস্কৃতির হাত ধরেই ঘটে থাকে। সমাজ-সংস্কৃতিতে যেন ভারসাম্যহীনতা না আসে, অস্থিতিশীলতা না দেখা দেয়, সে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয় এ কারণেই যে, আমরা শেষ পর্যন্ত এই লোক সংস্কৃতির সঙ্গেই জড়িয়ে থাকি।


সঙ্গতকারণেই, দশজনের বিশ কথার মধ্যে এখনো আমাদের আশ্বস্ত করে এই পহেলা বৈশাখ। এই দিনটি আমাদের মধ্যে উপস্থিত হয় অপরিমেয় শক্তি নিয়ে, সম্পর্ক স্থাপন করে যেমন সামাজিক শ্রেণিসমূহের মধ্যে, তেমনি নগর ও গ্রামের ভেতর। আমরা উপলব্ধি করি, বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি বিনিময় ও মিথস্ক্রিয়ার স্রোত প্রবল হয়ে ওঠার পরও পহেলা বৈশাখ অপরিমেয় এক শক্তি নিয়ে লোকজ উপাদানসমূহ ধরে রেখেছে এবং আধুনিক মানুষকেও সাংস্কৃতিকভাবে আকৃষ্ট করছে প্রবলভাবে। বড় বেশি অবিভাজ্য বাংলা নববর্ষ আর এই লোকজ সংস্কৃতি; প্রভাবকও তারা একে অপরের।


বাংলা নববর্ষের কথা উঠলে অনিবার্যভাবেই আসে বাঙালি সংস্কৃতির প্রসঙ্গ; তেমনি আসে বাঙালি জাতিসত্তা আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা; আসে বাঙালি জাতিসত্তার পাশাপাশি এই ভূখণ্ডে অবস্থানরত অনেক সংখ্যালঘু জাতিসত্তার কথাও। একাত্তরে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্ফুরণ ঘটেছিল, তার সংস্কৃতি চর্চার স্রোত সৃষ্টি হয়েছিল।


এখন যে অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোর বিকাশপ্রসঙ্গ আসছে, আসছে অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশ প্রসঙ্গ—স্বীকার করতেই হবে, তার সঙ্গে এই বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশেরও গভীর এক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে বৈশাখের প্রথম দিনে যখন নববর্ষ উদযাপন করা হয়, ঠিক একই সময় এ দেশে সমতল ও পাহাড়ের অনেক সংখ্যালঘু আদিবাসী জাতিসত্তার মানুষও তাদের নববর্ষ পালন করে থাকে।


বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের নিজস্ব নববর্ষের এমন উদযাপনের ঘটনা এখানে অনেক আগে থেকেই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে; কারণ এ ভূখণ্ডের নববর্ষ মূলত অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা আর সর্বজনীন উৎসবমুখরতার আধার। যদি বিভিন্ন মাজারের ওপর আক্রমণ, পীরহত্যা, বাউলদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা আমাদের এ-ও মনে করিয়ে দিচ্ছে, একটি অপশক্তি ক্রমশই তার কালো থাবা বসাচ্ছে আমাদের সহজাত চেতনাবোধের ওপর।


দুই.


বাংলা নববর্ষ, এককথায় বলতে পারি, অন্ত্যজ বাঙালির সংস্কৃতি। একদিনে নয়—এ নববর্ষ নিজেকে তৈরি করেছে বহুদিন ধরে। সাধারণভাবে আমরা বলে থাকি বটে, সম্রাট আকবর প্রচলন ঘটান এ নববর্ষের, তবে গবেষক-একাডেমিশিয়ানরা এ ব্যাপারে একেবারে নিঃসংশয় এখনো হতে পারেননি। তবে যার বা যাদের সময় থেকেই এর প্রচলন ঘটে থাকুক না কেন, এর সামাজিক প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্র সৃষ্টি ও পরিপুষ্ট হয়েছে আগে ও পরের অনেক সময় ধরে।


সম্রাট আকবর এর প্রচলন করেন, এ কথা যখন বলি, তখন আসলে আমরা বুঝিয়ে থাকি সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ সোপান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা নববর্ষ অনুমোদিত হওয়ার কথা, সামন্তবাদী সাম্রাজ্যের কাজকর্মে এবং রাজা-বাদশাহ-সামন্তদের বৈধ লুটপাটের প্রক্রিয়ায় (যেমন, খাজনা আদায়) এর গুরুত্ব তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু মূলত এসবের অনেক আগে থেকেই, সামাজিক ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার গুরুত্ব তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে শুরু করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও