বিশ্ব মোড়লের অন্যায় আচরণ
প্রথমেই স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ শুরু করেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে স্ত্রীসহ অপহরণ করেছে-সবকিছুই আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ। ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ২০১৭ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে আনেন। তিনি দীর্ঘস্থায়ী বিদেশি যুদ্ধ নিয়ে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যে, কঠোর সমালোচনা করেন এবং বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তার প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার থেকে কমে আড়াই হাজারে নেমে আসে। ইরাক ও সিরিয়ায়ও সেনা কমানো হয়।
২০২০ সালে তালেবানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে তার নীতি অনেকের কাছে যুদ্ধ-পরিহারের প্রচেষ্টা হিসাবে প্রতীয়মান হয়। তবে বাস্তব চিত্র ছিল আরও জটিল। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ২০১৫ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর ‘ম্যাক্সিমাম প্রেসার’ নীতির মাধ্যমে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে। তবুও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়নি। অর্থাৎ প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ছিল চাপ সৃষ্টি, লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ও নিষেধাজ্ঞা-কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সরাসরি যুদ্ধ নয়।
- ট্যাগ:
- মতামত
- বিশ্ব মোড়ল