নিজের মশা নিজেই মারুন
প্রায় দেড়শ বছর আগে কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কলকাতার মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে লিখেছিলেন, ‘রাতে মশা, দিনে মাছি, এই নিয়ে কলকাতায় আছি।’ জমানা বদলেছে, শাসক বদলেছে, সাইনবোর্ড বদলেছে, এমনকি শহরের আকাশরেখাও বদলেছে। কলকাতা হয়তো কিছুটা ‘বাম’ ও ‘মশা’ মুক্ত হয়েছে, অন্তত সেখানে মশা নিয়ে কবিতা লিখে টিকে থাকার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু আমাদের তিলোত্তমা ঢাকা শহর এখন মশা আর মৌলবাদী রাজনীতির অভয়ারণ্য; একটি চোখে মতাদর্শের জ্বর, আরেক চোখে মশার কামড়ের চুলকানি। ঈশ্বরগুপ্ত বেঁচে থাকলে নির্ঘাৎ কবিতা বদলাতেন: ‘দিনে মশা রাতেও মশা/ঢাকার নাগরিকের করুণ দশা।’ হয়তো আরও একটি লাইন যোগ করতেন: ‘ঘুম নেই, শান্তি নেই, কেবল চুলকানিই ভাষা।’
রাজধানী ঢাকায় মশার উপদ্রব সব সীমা ছাড়িয়েছে। ঢাকার মশা এখন আর কেবল পতঙ্গ নয়, তারা রীতিমতো এক সংগঠিত বাহিনী, যেন আলাদা মন্ত্রণালয় খুলে ফেলেছে। নালা-নর্দমা থেকে তারা ঝাঁকে ঝাঁকে যুদ্ধবিমান বা মিসাইলের মতো ধেয়ে আসে, আগে স্কাউট দল পাঠায়, পরে মূল বাহিনী। নালা-নর্দমায় ঝাঁকে ঝাঁকে মশা উড়ছে। মহানগরের অনেক এলাকায় দিনে-দুপুরেও মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হয়, এ যেন রোদেলা দুপুরে কারফিউ। মশা মারার প্রধান দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে সিটি করপোরেশনগুলো যেন অবসরযাপনে ব্যস্ত, যেন সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার স্থায়ী করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। প্রশাসকরা আছেন, কিন্তু দায়িত্ব পালনে দৃশ্যমান তৎপরতা কম; ফাইল চলে, কিন্তু ফগার চলে না। মাঝে মধ্যে দু-এক জায়গায় ওষুধ ছিটানো হয়, সেটাও অনেকটা ছবি তোলার উপযোগী সময় বেছে। তখন মশারা কাকের মতো অন্য পাড়ায় পালিয়ে যায়, যেন পূর্বনির্ধারিত মহড়া আছে। ওষুধের ঝাঁঝ কমলেই আবার নিজ এলাকায় ফিরে আসে, পুরোনো ঠিকানায় ফিরে আসা উদ্বাস্তুদের মতো।
- ট্যাগ:
- মতামত
- মশার উপদ্রব
- মশার কামড়