You have reached your daily news limit

Please log in to continue


বাজেটের কর কাঠামো কতটা ন্যায্য হলো

বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুতর একটি সংকট হলো—অর্থনীতির আকারের তুলনায় কর আহরণের হার বিশ্বের সবচেয়ে কমগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন ও সুদানের সামান্য ওপরে।

ওইসিডির তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের কর-জিডিপির অনুপাত মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে যা ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ এবং উন্নত দেশে ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ থাকে।

এই কম কর আহরণের কারণে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তাসহ অন্যান্য নাগরিক সেবায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অর্থ সংকুলান কঠিন হয়ে যায়।

ফলে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে হলে বাংলাদেশকে কর আহরণ বাড়াতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রশ্ন হলো—এই কর আহরণ কীভাবে বাড়ানো হবে?

দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভ্যাট ও শুল্কের মতো পরোক্ষ করের মাধ্যমে, নাকি ধনী ও সামর্থ্যবানদের আয় ও মুনাফার মতো প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে?

অথবা ধনী ও সামর্থ্যবানদের কর ফাঁকি দূর করে, নাকি বিদ্যমান করদাতাদের কাছ থেকেই আরও বেশি কর আহরণ করে?

এই প্রশ্নের উত্তরেই নির্ভর করবে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়বে না কমবে।

কর আদায় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ আয় করের বদলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর আদায়ের ওপর বেশি নির্ভর বা কর ফাঁকি দেওয়া ধনী ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বদলে নিম্ন আয়ের করদাতাদের ওপর বেশি নির্ভর করা হলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরও বাড়বে।

বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল, বাংলাদেশের রাজস্ব সংকট মূলত কোনো কারিগরি সমস্যা নয়, বরং এটি বৈষম্যমূলক রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল।

বিএনপি এই কাঠামো ভেঙে আয়কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে ন্যায্য, সর্বজনীন ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে রাজস্ব ভিত্তি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

দলটি উচ্চ আয়ের ব্যক্তি, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সম্পত্তির মালিকদের করজালের আওতায় আনা এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা, তথ্য বিনিময় ও ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। (বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার, পৃষ্ঠা ৩৭)

চলুন দেখা যাক, এবারের বাজেটের কর কাঠামোতে সেই প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করা হলো।

বাজেটে চাল, গম, আটা, ভোজ্যতেল, চিনি, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, আদাসহ প্রায় ৬০টি কৃষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎসে কর কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের ওপর উৎসে করের হার বিদ্যমান ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর ফলে পণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণ পর্যায়ে করের চাপ কমবে। এর প্রভাব যদি শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে পড়ে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতি হ্রাসের ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণ মানুষের ওপর থেকে পরোক্ষ করের চাপ কমানোর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে দিনশেষে সাধারণ মানুষের ঘাড় থেকে করের সর্বমোট বোঝা কমছে না বাড়ছে, তা বোঝার জন্য কর কাঠামোর দিকে তাকানোর দরকার।

কর কাঠামো বলতে বুঝতে হবে প্রত্যক্ষ কর ও পরোক্ষ করের অনুপাত।

বাজেটের অর্থ কার কাছ থেকে আদায় করে, কার কাজে লাগানো হচ্ছে, সেটা বোঝার জন্য করের এই অনুপাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রত্যক্ষ কর হলো—সামর্থ্যবানদের আয় ও মুনাফা থেকে প্রাপ্ত কর। আর পরোক্ষ কর হলো—ভ্যাট ও শুল্ক বাবদ প্রাপ্ত কর, যা ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার কাছ থেকে আদায় করা হয়।

বেশিরভাগ কর যদি দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হয়, তাহলে সেটা বৈষম্য বাড়ায়।

বৈষম্য কমাতে হলে প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে হয়। অর্থাৎ ধনীদের কাছ থেকে কর আদায় বাড়াতে হবে।

দেখতে হবে, বিভিন্ন ধরনের কর ছাড়ের ফলাফল কর কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনছে কি না।

যদি বরাবরের মতোই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পরোক্ষ কর বেশি আদায় করা হয়, তাহলে এসব কর ছাড় কোন কোন ক্ষেত্রে স্বস্তি দিলেও দিনশেষে করের মূল বোঝাটা সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে।

বিএনপি সরকার ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট অনুসারে, এনবিআরের মাধ্যমে কর আহরণ করা হবে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ধনী ও সামর্থ্যবানদের আয়, মুনাফা ও মূলধনের ওপর প্রত্যক্ষ কর আদায় করা হবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন