ধর্ষণ-হত্যা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি : রাষ্ট্র কোথায় দাঁড়িয়ে?

জাগো নিউজ ২৪ মাধবদী, নরসিংদী হাসান হামিদ প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬, ১২:০৬

নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে অপহরণ করে হত্যা করার ঘটনা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সামনে এক নির্মম প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগে ওই কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল এবং পরিবার বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো হুমকি, সামাজিক চাপ ও ক্ষমতার প্রভাবের মুখে পড়ে। বিচার না পেয়ে, নিরাপত্তা না পেয়ে, শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারাতে হলো একটি কিশোরীকে। এই ঘটনাকে আমরা বিচ্ছিন্ন অপরাধ বলে পাশ কাটাতে পারি না; বরং এটি আমাদের বিচারহীনতা, সামাজিক নৈতিক অবক্ষয় এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার গভীর সংকটের প্রতিফলন।


মাধবদী থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে, ধর্ষণের অভিযোগের পর পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের কাছে বিচার চেয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, সালিশের নামে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়ার চাপ দেওয়া হয়। বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। পরিণতিতে, বাবার সামনে থেকে কিশোরীকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি কেবল একটি খুন নয়; এটি বিচারপ্রার্থীর কণ্ঠরোধ, একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের অধিকারকে নির্মমভাবে অস্বীকার করা।


এই ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকেও গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন প্রথম অভিযোগের সময়ই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? কেন পরিবার থানায় অভিযোগ করতে পারেনি; ভয়, অজ্ঞতা, নাকি প্রভাবশালীদের চাপ? স্থানীয় সালিশ সংস্কৃতি আমাদের গ্রামীণ সমাজে দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। কিন্তু যখন এই সালিশ বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রতিস্থাপন করে এবং অপরাধীদের রক্ষা করে, তখন তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি হয়ে দাঁড়ায়।


বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২,৮০৮ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৭৮৬ জন ধর্ষণের শিকার, যার ৫৪৩ জনই কন্যাশিশু। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৭৯ জন; ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩১ জনকে। এই পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা নয়; প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি জীবন, একটি পরিবার, একটি অসমাপ্ত ভবিষ্যৎ। একই বছরে ৭৩৯ জন নারী ও কন্যাকে হত্যা করা হয়েছে। ২৩০ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এই চিত্র আমাদের বলে দেয়- নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।


ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিচারহীনতা। মামলার দীর্ঘসূত্রতা, প্রমাণ সংগ্রহে গাফিলতি, সাক্ষী সুরক্ষার অভাব, সামাজিক কলঙ্কের ভয় সব মিলিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার অনেক সময়ই আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ধারীরা সালিশের নামে আপসের চাপ সৃষ্টি করেন। এতে অপরাধীরা বার্তা পায়, ক্ষমতা থাকলে শাস্তি এড়ানো সম্ভব। এই সংস্কৃতি ভাঙতে না পারলে কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট হবে না।


আমরা দেখছি, রাজনৈতিক দলগুলো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে, কিন্তু দলীয় বহিষ্কার কখনোই ফৌজদারি অপরাধের বিকল্প বিচার নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে, নিরপেক্ষভাবে চলতে হবে। তদন্তে কোনো প্রভাব, রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপ, কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা যে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তা পাবে, সাক্ষীরা সুরক্ষা পাবে, এবং বিচার দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও