শহীদ বেদীতে জামায়াতের রাজনীতির ফুল

বিডি নিউজ ২৪ মুস্তাফিজুর রহমান রূপম প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০১

ইতিহাসে প্রথমবার একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেল জামায়াতে ইসলামী। দলটি তাদের সঙ্গে একজন ‘ভাষাসৈনিক’কেও নিয়ে গেছে। তিনি যদিও বেঁচে নেই তার নামে স্লোগানে মুখরিত করেছে শহীদ মিনারচত্বর– ‘ভাষাসৈনিক গোলাম আযম–লও লও লও সালাম’। প্রদর্শনটা এমন ছিল দেখ, ভাষা আন্দোলনটা কিন্তু আমাদেরও। ভাষাসৈনিক গোলাম আযম আমাদের।


এই গোলাম আযমের হাতেই পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির বিস্তার ঘটেছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন দলটির পূর্ব পাকিস্তান শাখার আমির। তার নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরের ভূমিকা পালন করেছে যুদ্ধের পুরোটা সময়। তাদের গড়া রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসের নির্যাতনের ইতিহাস নতুন করে বলবার দরকার নেই।


যদিও জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অবিভক্ত ভারতে ১৯৪১ সালে এবং দলটি পাকিস্তান নামক দেশটির জন্মেরও বিরোধিতা করেছিল, পরে সেই পাকিস্তান রক্ষার নামে তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যায় অংশ নিয়েছে।


মাওলানা সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী ১৯৪১ সালে ২৬ অগাস্ট লাহোরের ইসলামিয়া পার্কে সামাজিক-রাজনৈতিক ইসলামী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’ নামে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। গোলাম আযম তখন তরুণ এবং তখন ওই সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল না। আরও পরে ১৯৪৮ সালের ২৭ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের কাছে ডাকসুর জিএস হিসেবে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে যখন মানপত্র তুলে দিয়েছিলেন, তখনও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তার কোনো সংযোগ ছিল না। তিনি ১৯৫২ পর্যন্ত ডাকসুর জিএস ছিলেন। কাজেই ভাষা আন্দোলনে গোলাম আযমের হয়তো আরও অনেক ভূমিকা ছিল–অন্তত তার দল জামায়াতে ইসলামী এমনটাই দাবি করে থাকে। যদিও বিরুদ্ধবাদীদের মতে, লিয়াকত আলী খানের উপস্থিতিতে মানপত্র পাঠের গৌরবটুকু ঘটনাচক্রে অর্জিত হয়েছিল তার।


‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’ নামে ২০১২ সালের দিকে একটা সিডি বাজারে ছেড়েছিল জামায়াতে ইসলামী। তাতে বদরুদ্দীন উমরসহ বেশ কজন বিশিষ্ট মানুষের নাম রয়েছে যারা গোলাম আযমকে ভাষা আন্দোলনের মহান সৈনিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ভাষা আন্দোলন সবচেয়ে বিস্তৃত ও বস্তুনিষ্ঠ গবেষণাটি করেছেন যে বদরুদ্দীন উমর, তিনি এ ঘটনায় ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তখনই তার কলামে জামায়াতের এ দাবিকে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বলে উল্লেখ করে লিখেন, ক্যাসেট তৈরির সময় তিনি কোনো তথ্য সহায়তা দেননি এবং বিষয়টি তিনি জানতেনও না। ওই কলামে তিনি লিখেছিলেন, “আমি আমার ভাষা আন্দোলনের বইটির প্রথম খণ্ডে একবারই মাত্র গোলাম আযমের উল্লেখ করেছি। ১৯৪৮ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান পূর্ব পাকিস্তান সফরে আসেন। ২৭ নভেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এক সমাবেশে ভাষণ দেন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাকে একটি মানপত্র দিয়ে তাতে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়। এ মানপত্রটি পাঠ করেন ইউনিয়নের তৎকালীন সেক্রেটারি গোলাম আযম। আসলে এটি পাঠ করার কথা ছিল ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট অরবিন্দ বোসের। কিন্তু লিয়াকত আলীকে ভাষা আন্দোলনের দাবি সংবলিত মানপত্র পাঠ একজন হিন্দু ছাত্রকে দিয়ে করালে তার মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে এবং মুসলিম লীগ সরকার এ নিয়ে নানা প্রকার বিরূপ প্রচার শুরু করবে—এ আশঙ্কা থেকেই একজন মুসলমান ছাত্র হিসেবে সেক্রেটারি গোলাম আযমকে সেটা পাঠ করতে দেওয়া হয়েছিল।”


গোলাম আযমের নিজের লেখা ‘জীবনে যা দেখলাম’ আত্মজীবনীতেও ওই দিনের ঘটনার প্রায় অভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকা বড় না ছোট, তার চেয়ে বড় কথা হলো তিনি নিজেই পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সালে ভাষা আন্দোলনে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে আক্ষেপ করেছিলেন। ওই বছর ১৮ জুন পশ্চিম পাকিস্তানের শুক্কুর নামে এক শহরে তার সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তিনি বলেন, উর্দু পাকিস্তান ও ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের সাধারণ ভাষা হওয়া উচিত এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ভুল ছিল—যার উল্লেখ ১৯ জুন ১৯৭০ সালের ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকায় পাওয়া যায়। ফলে ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বয়ান ও বিতর্কের অস্তিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও