আমলাতন্ত্রের অদৃশ্য বাধা এবং দুদক সংস্কারে নতুন সরকারের যত চ্যালেঞ্জ

প্রথম আলো নুরুল হুদা সাকিব প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪৮

বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই আবারও একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে সামনে এসেছে। সদ্য নির্বাচিত সরকারের ঘোষণাপত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ এই প্রতিশ্রুতি জনমনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক চাপ এবং কার্যকারিতার ঘাটতিতে ভোগা ব্যবস্থাটি অবশেষে কি প্রয়োজনীয় সংস্কার পাবে—এই প্রশ্ন এখন আলোচনার কেন্দ্রে।


এই প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সমালোচকদের ভাষায়, এটি বহু বছর ধরে ‘দন্তহীন বাঘ’—আইনগত ক্ষমতা থাকলেও প্রয়োগে দুর্বল, কাঠামোগতভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং কার্যক্রমে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান সংস্কার কেবল প্রশাসনিক রদবদল বা রাজনৈতিক ভাষণের বিষয় নয়। এটি রাজনৈতিক সাহস, আমলাতান্ত্রিক সংযম এবং প্রাতিষ্ঠানিক নকশার একটি কঠিন পরীক্ষা।


সাম্প্রতিক সংস্কার আলোচনা নীতিনির্ধারক ও দুদকের ভেতরের অনেক কর্মকর্তার মধ্যে সতর্ক আশাবাদ তৈরি করেছিল। তবে শেষ পর্যায়ের সুপারিশে কিছু মৌলিক প্রস্তাব বাদ পড়েছে—এমন ইঙ্গিতও মিলেছে। যদি তা সত্য হয়, তবে এটি পুরোনো ঝুঁকির পুনরাবৃত্তি: সংস্কারের ভাষা থাকবে, কিন্তু সংস্কারের সারবস্তু থাকবে না।


এখন আর প্রশ্ন এটা নয়, সংস্কারের ঘোষণা আসবে কি না; ঘোষণা ইতিমধ্যেই এসেছে। আসল প্রশ্ন হলো, সংস্কারকে কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে কি না।


ঐতিহাসিকভাবেই দুর্বল ভিত্তি


বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে জনসাধারণের সংশয় আকস্মিক নয়; এর গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। একাধিক সরকার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও আইন প্রয়োগ প্রায়ই হয়েছে বাছাইভিত্তিক এবং রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী।


রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় কিছু ‘হাই প্রোফাইল’ মামলা সামনে আসে, পরে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে তদন্ত দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে বা জটিল প্রক্রিয়ায় আটকে যায়।


অন্যদিকে সেবা খাতে দৈনন্দিন দুর্নীতি অব্যাহত থাকে। এই ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে ‘ঘোষণা ক্লান্তি’—মানুষ শক্ত কথা শোনে, কিন্তু ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন দেখে না। ফলে নতুন কোনো দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতিকে এখন কেবল বর্তমান বাধা নয়, অতীতের অবিশ্বাসও অতিক্রম করতে হয়।


নতুন সরকার যদি সত্যিই ভিন্নতা দেখাতে চায়, তবে তাকে এই চক্র ভাঙতে হবে। শুধু নতুন স্লোগান নয়, দরকার ক্ষমতার স্বেচ্ছা-সংযম—তদন্ত ও মামলার প্রক্রিয়ায় নির্বাহী হস্তক্ষেপের সুযোগ কমিয়ে আনা।


সংস্কারের ভেতরের দুর্বলতা


সব ধরনের সংস্কারের ক্ষেত্রেই নীতিগত সংস্কার খুব কম ক্ষেত্রেই সরাসরি প্রত্যাখ্যাত হয়; বরং বেশি ক্ষেত্রে তা দুর্বল করা হয় বাদ দেওয়ার মাধ্যমে। খসড়া প্রস্তাবে থাকে শক্ত সুরক্ষা, চূড়ান্ত নথিতে তা নরম হয়। বাধ্যতামূলক নজরদারি হয় পরামর্শমূলক। নিয়োগ প্রক্রিয়া থাকে নির্বাহী প্রভাবাধীন। বাজেট স্বায়ত্তশাসনের বদলে থাকে নামমাত্র স্বাধীনতা।


দুদকের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। যদি সত্যিই দেখা যায় যে নিয়োগের স্বাধীনতা, প্রসিকিউশন ক্ষমতা এবং আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো চূড়ান্ত সুপারিশ থেকে বাদ গেছে, তবে তা হবে গুরুতর আশঙ্কা। তখন প্রতিষ্ঠান বদলাবে আকারে, কার্যকারিতায় নয়।


দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার সব সময়ই শক্ত স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যায়। রাজনৈতিক মহল অনিয়ন্ত্রিত তদন্তকে ভয় পায়। আমলাতন্ত্রের উঁচু স্তর অনুপ্রবেশমূলক নজরদারি অপছন্দ করে। পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক নেটওয়ার্ক টিকে থাকে অস্বচ্ছতার ওপর। ফলে সবাই চায় একটি নিয়ন্ত্রিত প্রহরী, যা স্বাধীন নয়।
আমরা জানি, জুলাই চার্টারে দুদকসহ শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য মোট ৪৭টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং নীতিগতভাবে এর অধিকাংশই চার্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও