বরকতপূর্ণ সুন্নত সাহ্‌রির ফজিলত

প্রথম আলো শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৪

সাহ্‌রি শব্দের অর্থ শেষরাতের খাবার। রোজা ও রমজানের অতি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ সাহ্‌রি। পরিভাষার দিক থেকে রোজা বা সাওম পালনের উদ্দেশ্যে ভোররাতে সুবহে সাদিকের আগে যে আহার গ্রহণ করা হয়, সেটিই সাহ্‌রি।


পূর্ববর্তী নবী–রাসুলের যুগে সাহ্‌রির বিধান ছিল না। তখন সন্ধ্যারাতে এশার ওয়াক্তের মধ্যে ঘুমানোর আগেই পানাহার শেষ করার নিয়ম ছিল। ইসলামের প্রাথমিক যুগেও ওই নিয়ম বিদ্যমান ছিল।


একবার হজরত কয়েস ইবনে সামরাহ আনসারি (রা.) নামের একজন সাহাবি সারা দিন পরিশ্রমের পর ইফতার করে রাতের খাবারের আগেই ঘুমিয়ে পড়েন এবং পরদিন রোজা রেখে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ বিষয়টি প্রিয় নবীজি (সা.)–এর কাছে পেশ করা হলে সাহ্‌রির নতুন বিধান–সংবলিত এই আয়াত নাজিল হয়, ‘সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী মিলন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদস্বরূপ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদস্বরূপ। আল্লাহ জানেন যে তোমরা নিজেদের প্রতি অবিচার করছিলে। অতঃপর তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হলেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করে দিলেন। সুতরাং এখন তোমরা তাদের সঙ্গে সংগত হও এবং আল্লাহ যা তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, তা কামনা করো। আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ রাতের কৃষ্ণ রেখা থেকে উষার শুভ্র রেখা সুস্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। অতঃপর রাত আসা পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো। আর তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য স্পষ্ট করেন, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৭)


তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য সাহ্‌রির গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাহ্‌রি খাও। কেননা, সাহ্‌রিতে রয়েছে বরকত।’ (বুখারি, ১৮০১)


নবীজি (সা.) আরও বলেন, ‘আমাদের রোজা আর আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহ্‌রি খাওয়া আর না খাওয়া।’ (মুসলিম, আলফিয়াতুল হাদিস, পৃষ্ঠা: ১৩১)


‘অর্ধরাত্রির পর থেকে সাহ্‌রির সময় শুরু হয়।’ (মোল্লা আলী কারী (রহ.) মিরকাত শরহে মিশকাত)। ইমাম যামাখ্শারী (রহ.) ও ফকিহ আবুল লাঈস ছামারকান্দী (রহ.)–এর মতে, সাহ্‌রির সময় হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ।


সাহ্‌রি বিলম্বে খাওয়া সুন্নত। তবে সন্দেহের সময় পর্যন্ত বিলম্ব করা উচিত নয়, তার আগেই সাহ্‌রির নিরাপদ সময়সীমার মধ্যে পানাহার শেষ করতে হবে। রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহ্‌রি খাও; যদি তা একঢোঁক পানিও হয়’। অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তোমরা সাহ্‌রি খাও; যদি এক লোকমা খাদ্যও হয়’। (মুসলিম) অর্থাৎ যেকোনো প্রকার ও যেকোনো পরিমাণ খাদ্য বা পানীয় দ্বারাই সাহ্‌রির সুন্নত পালন হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে সাহ্‌রি গ্রহণ না করলে সুন্নত তরক হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও