ক্রিকেট কূটনীতি এবং বাংলাদেশ

যুগান্তর মোহাম্মদ হাসান শরীফ প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮

ঘটনা শুরু হয়েছিল মোস্তাফিজকে নিয়ে। তারপর বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বয়কটের পর পাকিস্তানের ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার ঘোষণায় উত্তেজনার পারদ বেশ চড়ে যায়। তবে শেষটায় পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ উভয়ের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে বলাটা কমই হয়। বলা যায়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয়েরই জয় হয়েছে। ভারতীয় আধিপত্যের কাছে নতি স্বীকার না করার ক্ষেত্রে একটি বড় লড়াই করেছে বাংলাদেশ।


তবে এটা খুবই আফসোসের বিষয় হলো, বাংলাদেশ চলমান বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না। ক্রিকেট দুনিয়া বিশ্বকাপ নিয়ে যে উন্মাদনায় মেতে রয়েছে, তা থেকে দূরে বাংলাদেশ। আবার ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারে একটি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডটি লেখার গৌরব অর্জন করার বিষয়টিও অদেখা থেকে গেল। তবে দিনের শেষে প্রাপ্তিও কিন্তু কম নয়।


বিষয়টি কিন্তু বাংলাদেশ শুরু করেনি। জানুয়ারির শুরুতে ভারতের কট্টরপন্থি কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার দাবি তুলতে শুরু করে, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের প্রতিবাদে আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধ করা উচিত। এতে ইন্ধন দিয়ে রিপাবলিক বাংলা এবং কিছু ডানপন্থি ইউটিউব চ্যানেল (যেমন : সংগীত সোমের সমর্থিত প্ল্যাটফর্ম) সরাসরি দাবি তোলে, মোস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দিতে হবে। ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি দিয়ে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে কেনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়কটের হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ডিং করা হয় এবং শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসাবে আখ্যা দেওয়া হয়। ভারতের কিছু ধর্মীয় নেতা ও উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। এমনকি উজ্জয়িনীর কয়েকজন ধর্মীয় নেতা কেকেআর-এর ম্যাচ চলাকালীন পিচ আক্রমণের হুমকিও দিয়েছিলেন। তীব্র সাম্প্রদায়িক চাপের মুখে ৩ জানুয়ারি বিসিসিআই (নাকি তারাই এসব ব্যক্তি ও সংগঠনকে আড়ালে এসব কাজ করতে বলেছিল। যাতে, তাদের কথা রেশ ধরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে!) কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে মুক্ত করতে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির’ কথা বলা হয়েছিল, তবে এটি স্পষ্ট ছিল যে, ভারতের উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর দাবির কাছেই বোর্ড মাথা নত করেছে।


এ অবস্থায় বাংলাদেশের যা করার দরকার ছিল, সেটাই করেছে। এখানে ব্যক্তি মোস্তাফিজের চেয়ে বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়ের বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মোস্তাফিজ জাতীয় দলের খেলোয়াড়। তাকে অপমান করা মানে বাংলাদেশকেই অপমান করা। আর যে সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্ন তুলে তাকে বাদ দেওয়া হলো, তেমন কোনো ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেইনি। বরং ভারতেই সে ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। ভারতই ক্রিকেটের রাজনীতিকরণ করেছে। ফলে দৃঢ় প্রতিবাদ না করলে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রশ্নবিদ্ধ হতে বাধ্য। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসাবে যৌক্তিক পদক্ষেপই গ্রহণ করে। যে ভারত একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সে দেশে পুরো দলকে ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কিভাবে ফেলা যায়? বাংলাদেশের ভারতে না খেলার চেয়ে কম কিছু করা সম্ভব ছিল না। শ্রীলংকায় ভেন্যু করার অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। তবে ভারতীয় আধিপত্যপুষ্ট আইসিসি তা মানেনি। বরং কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়। এই পর্যায়ে পাকিস্তানের অবস্থান বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হয়ে ওঠে।


বাংলাদেশের এই বর্জনের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড নজিরবিহীন সংহতি প্রকাশ করে। পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, যদি বাংলাদেশ না খেলে, তবে তারাও ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না। এর ফলে আইসিসি এক বিশাল আর্থিক ও বাণিজ্যিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। স্টার স্পোর্টসসহ সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল ক্ষতির আশঙ্কায় আইসিসির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি ভারত যে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের স্বপ্ন দেখছিল, সেটাও প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। এ সংকটের মুখে আইসিসি [পড়ুন ভারত] নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। সম্ভবত এই প্রথম ভারত আইসিসিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ শক্তির কাছে পরাজিত হলো। বাংলাদেশেকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই শুধু সরে আসেনি, এবারের বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও আইসিসি বাংলাদেশকে বিশাল আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশকে বড় একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের নিশ্চয়তাও দিয়েছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জন্য পর্দার অন্তরালে আরও কিছু সুবিধাও দিয়েছে বলে নানা মাধ্যমে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে পিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিসিবি এবং ভারত ম্যাচে অংশ নিতে পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছে। ১৫ তারিখ পাকিস্তান-ভারত হাই ভোল্টেজ ম্যাচ কলম্বোয়। ক্রিকেটবিশ্ব অপেক্ষায় রয়েছে সেই বারুদে ঠাসা ম্যাচের।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও