বাংলাদেশ থেকে ভারত ভ্রমণে বিধিনিষেধ, ভিসায় কড়াকড়ি, নানা শর্ত আরোপ আর ভ্রমণ কর বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরে। এক বছরের ব্যবধানে এই বন্দর দিয়ে ভারতগামী ও প্রত্যাবর্তনকারী পাসপোর্টধারী যাত্রীর সংখ্যা কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি। চিকিৎসা, ব্যবসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতমুখী বাংলাদেশিদের যাতায়াত হঠাৎ কমে যাওয়ায় ভ্রমণ খাতের পাশাপাশি দুই দেশের রাজস্ব আয়েও ধাক্কা লেগেছে।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর এই বন্দর দিয়ে ২০ থেকে ২২ লাখ পাসপোর্টধারী যাতায়াত করতেন। চিকিৎসা, ব্যবসা, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ কিংবা উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া-আসা করেন তাঁরা। এ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা এবং ভারতের প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় হতো। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের পর দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা দেওয়া সীমিত করে ভারত। নতুন নতুন শর্ত আরোপের পাশাপাশি বাড়ানো হয় ভ্রমণ কর। এতে করে আকস্মিকভাবে যাত্রীসংখ্যা কমে যায়।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই বন্দর দিয়ে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার ১২ জন পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতে গেছেন ১০ লাখ ১৮ হাজার ৭৫ জন এবং ভারত থেকে ফিরেছেন ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৯৩৭ জন। তবে পরের বছর এই চিত্র আমূল বদলে যায়। ২০২৫ সালে মোট যাত্রী নেমে আসে ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৯২৮ জনে। তাঁদের মধ্যে ভারতে গেছেন ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৮ জন, আর ফিরেছেন ৩ লাখ ২২ হাজার ২২০ জন। এক বছরের ব্যবধানে যাত্রী কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৪ জন।