আর্কটিক ভূরাজনীতিতে গ্রিনল্যান্ড

www.ajkerpatrika.com জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৮

ভেনেজুয়েলার সম্প্রতিকালের রাজনৈতিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানে একটি বিস্তৃত রূপান্তরের ইঙ্গিত বহন করে। এই হস্তক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক সংকটে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং তা বৈশ্বিক ক্ষমতাকাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির এক গভীর পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্রমবর্ধমানভাবে এমন এক বিশ্বব্যবস্থার ধারণা সামনে আনছে, যেখানে ভূখণ্ড, প্রভাবক্ষেত্র ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে আসছে।


এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিপাত এখন এমন সব ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে, যেগুলো অতীতে তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক বলে বিবেচিত হলেও বর্তমান বৈশ্বিক রূপান্তরে ক্রমেই কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা হুমকির বহুমাত্রিক বিস্তারের ফলে এসব অঞ্চল নতুন করে শক্তি প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। আর্কটিক অঞ্চল—বিশেষত গ্রিনল্যান্ড—এই পুনর্গঠিত ভূরাজনৈতিক মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।


গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহকে তাই বিচ্ছিন্ন কোনো কূটনৈতিক মন্তব্য বা তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি আর্কটিক ভূরাজনীতিতে উদীয়মান শক্তি প্রতিযোগিতা, নিরাপত্তা স্থাপত্যের পুনর্গঠন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই ভূখণ্ড নৌপথ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষেপণাস্ত্র আগাম সতর্কব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সামরিক ও প্রযুক্তিগত মোতায়েনের ক্ষেত্রে ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে।


একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের ভূরাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও জটিল করে তুলেছে চীন ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও আগ্রহ। আর্কটিক অঞ্চলে অবকাঠামো বিনিয়োগ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং কৌশলগত সহযোগিতার আড়ালে এই দুই শক্তির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও প্রভাবগত প্রশ্ন উত্থাপন করছে।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে দেওয়া বিভিন্ন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও সেগুলো দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অতিশয়োক্তি কিংবা অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক ভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ, প্রতীকী সফর, নীতিগত বিবৃতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক কৌশলের একটি কাঠামোগত উপাদানে পরিণত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পুনঃঅবস্থান ক্রমেই সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে।


ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ; বিশেষ করে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌম অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেও একই সঙ্গে তারা এই পরিবর্তিত বাস্তবতাও উপলব্ধি করছে, আর্কটিক অঞ্চল দ্রুত আন্তর্জাতিক শক্তি প্রতিযোগিতার একটি কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিতে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বরফের স্থায়ী আবরণ সরে যাওয়ায় নতুন সামুদ্রিক নৌপথ উন্মোচিত হচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের সুযোগ বাড়ছে। এ ছাড়া সামরিক উপস্থিতি বিস্তারের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

এই সম্পর্কিত

আরও