ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পুরোনো ব্যর্থতা, নতুন বছরে কি পরিবর্তন সম্ভব?

ঢাকা পোষ্ট কবিরুল বাশার প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৩

ঢাকা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর সাময়িক বা মৌসুমি কোনো সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘদিনের কাঠামোগত জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা এলেই ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, হাসপাতালগুলোয় শয্যার সংকট দেখা দেয় এবং মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়।


সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই দৃশ্য আমরা বহু বছর ধরেই দেখে আসছি। তবু প্রতিবারই মনে হয়, আমরা যেন নতুন করে অবাক হচ্ছি। বাস্তবে ডেঙ্গু নতুন নয়, নতুন নয় আমাদের অভিজ্ঞতাও, নতুন হচ্ছে কেবল আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর তালিকা।


ঢাকাতে প্রথম ডেঙ্গু দেখা দেয় ১৯৬৩ সালে। তখন একে ঢাকা ফিভার হিসেবে চিহ্নিত করা বা নাম দেওয়া হয়েছিল। ডেঙ্গুর প্রথম বড় আউটব্রেক হয় ২০০০ সালে আর তখন বিজ্ঞানীরা একে ডেঙ্গু হিসেবে চিহ্নিত করে। ওই বছর বাংলাদেশ ৫,৫৫১ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় এবং ৯৩ জন মারা যায়।


এরপর প্রায় প্রতিবছরই কমবেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে তবে ২০১৯ সালে ডেঙ্গু এপিডেমিক আকার ধারণ করে। ওই বছর সরকারি হিসেব অনুযায়ী ১০১,৩৫৪ জন মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১৭৯ জন মারা যায়। করোনাকালীন বছরগুলোয় ডেঙ্গু কিছুটা নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে থাকলেও ২০২৩ সালে বাংলাদেশের সব ইতিহাস ভেঙে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ রোগী ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যায় ১,৭০৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে ২০২৪ সালে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন মানুষ ডেঙ্গুর রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৫৭৫ জন মানুষ মারা গিয়েছে।


২০২৫ সালের ডেঙ্গু রোগীর লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে পুরুষ ৬২.৫ শতাংশ এবং নারী ৩৭.৫ শতাংশ। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পুরুষের হার কিছুটা বেশি (৫২.১ শতাংশ), তবে নারীদের মৃত্যুহারও উল্লেখযোগ্য (৪৭.৯ শতাংশ)। বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে ১৬–৩০ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ২১–২৫ ও ২৬–৩০ বছর বয়সী শ্রেণি। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে শিশু (০–৫ বছর) এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।


ভৌগোলিকভাবে ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ঢাকা মহানগর ও ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি, তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী ও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এই চিত্র প্রমাণ করে যে ডেঙ্গু এখন আর কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; এটি সারা দেশে বিস্তৃত একটি জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে।


মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, বিশেষ করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বগতি এডিস মশার প্রজননের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে প্রতীয়মান হয়।


সার্বিকভাবে স্পষ্ট হয় যে, ২০২৫ সালে ডেঙ্গু বাংলাদেশে একটি বড় জনস্বাস্থ্য দুর্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুহার, রাজধানীসহ সারা দেশে বিস্তার এবং দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালভিত্তিক চাপ—সব মিলিয়ে এটি বিদ্যমান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়হীনতার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে কার্যকর, তথ্যভিত্তিক ও প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট থেকে বের হওয়া কঠিন হবে।


বাংলাদেশে ডেঙ্গুর ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুরুতে এটি ছিল ঢাকা-কেন্দ্রিক একটি সীমিত সমস্যা। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জনসংখ্যার চাপ, দ্রুতগতির নির্মাণকাজ, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গু আজ দেশের প্রায় সব বড় শহরের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। জেলা শহর, পৌরসভা এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ ডেঙ্গু আর কেবল নগর সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকট, যার মোকাবিলায় খণ্ডিত ও মৌসুমি উদ্যোগ কখনোই যথেষ্ট নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও