১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় ক্র্যাক-ডাউনের খবর পাওয়ার পর মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক নেতারা গঠন করেন বিপ্লবী পরিষদ। এই পরিষদের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আবদুল হালিম চৌধুরী।\r\n\r\nওই রাতেই পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানিকগঞ্জের ট্রেজারিতে রক্ষিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ বের করে ছাত্র ও যুবকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।\r\n\r\nএরপর দিন থেকে ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর আলুর গুদামের পেছনে শুরু হয় অস্ত্র প্রশিক্ষণের। এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে হেলিকপ্টারে করে বিপুল সংখ্যক পাকসেনা মানিকগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। প্রথমে প্রতিহতের কথা চিন্তা করলেও কৌশলগত কারণে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয় বিপ্লবী পরিষদ। মানিকগঞ্জ ছেড়ে কর্মীসহ সংগঠনের নেতারা অবস্থান নেন হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম অঞ্চলে। সেখানে প্রশিক্ষণ শেষে মানিকগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে পাল্টা হামলা করার শক্তি অর্জন করে।\r\n\r\nএরপর থেকে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে মুক্তি বাহিনীর সঙ্গে পাক বাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়। এর মধ্যে গোলাইডাঙ্গা, সূতালড়ি, আজিমনগর, বায়রা, নিরালী সাটুরিয়া, নারচি, বালিরটেক, গাজিন্দা, মানোরাসহ বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ হয়।\r\n\r\nতবে গোলাইডাঙ্গার যুদ্ধে ৮১ জন পাক হানাদার ঘটনাস্থলে মারা যান। পরের দিন পাক বাহিনী হেলিকপ্টারে আরো সৈন্য বৃদ্ধি করে গোলাইডাঙ্গা গ্রামে হামলা চালিয়ে কয়েকশ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। গুলি করে হত্যা করে আটজন গ্রামবাসীকে।\r\n\r\nমুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পাক বাহিনী পুরো মানিকগঞ্জে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। পাক বাহিনীর হাতে মানিকগঞ্জের সহস্রাধিক নিরীহ মানুষ নিহত হন। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধে মানিকগঞ্জে শহীদ হন ৫৮ জন মুক্তিযোদ্ধা। হত্যা করা হয় প্রায় সাত হাজার নিরীহ মানুষকে। আহত হয় ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা।\r\n\r\nডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মুক্তি বাহিনীর আক্রমণে পাক সেনারা মানিকগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে পিছিয়ে যেতে শুরু করে। ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় পাক বাহিনী মানিকগঞ্জ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখতে মানিকগঞ্জে ১৩ ডিসেম্বর থেকে আয়োজন করা হয় বিজয় মেলার।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
We use cookies to ensure you get the best experience on our website.